ইত্তেফাক রিপোর্ট
ঈদের আনন্দ উদ্যাপন করতে সকালে বাসার ছাদে গিয়েছিল সাত বছরের শিশু শাহাদত হোসেন। বাইরে যেতে মানা, তাই সে ছাদ থেকেই দেখছিল চারপাশ। তার ভবনের পাশেই চলছিল পশু কোরবানি। দোতলার ছাদের কিনার থেকে ঝুঁকে সেই দৃশ্য দেখতে গিয়ে তার পা ফসকে যায়। নিচে পড়ে মারাত্মক আহত হয় শিশুটি। পরে চিকিত্সাধীন অবস্থায় বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয়। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়ার মধ্যপাড়া এলাকায়।
মৃতের চাচা গোলাম কবির জানান, মেরাদিয়া মধ্যপাড়া এলাকার একটি দোতলা ভবনের নিচতলায় মা ফরিদা বেগমের সঙ্গে থাকত শাহাদত। সে স্থানীয় একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। তার বাবা হারুন হোসেন হাওলাদার গ্রামের বাড়ি বরগুনার বেতাগী থানার ভোলানাথপুরে থাকেন। তিনি সেখানে কৃষিকাজ করেন। বছরখানেক আগে তার সঙ্গে ফরিদা বেগমের বিচ্ছেদ হয়। তখন থেকে শিশুটি তার মায়ের সঙ্গে ঢাকায় থাকত।
স্বজনরা জানান, বুধবার ঈদের দিন সকাল ১০টার দিকে শিশুটি ছাদে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই সে ছাদ নিচে পড়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিত্সার পর ডাক্তারদের পরামর্শে তাকে স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়। পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট।
খিলগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজীব কুমার সাহা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। প্রাথমিক তদন্তে এটি নিছক দুর্ঘটনা বলেই মনে হয়েছে। এ ঘটনায় মৃতের স্বজনের কোনো অভিযোগ ছিল না, তারা কোনো মামলা করতে চাননি। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।
