৩১ আগস্টের মধ্যে দেশটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ার
মধ্যেই তালেবানের বিরুদ্ধে এই বিমান হামলা চালানো হলো
g রয়টার্স ও এপি
তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াইরত আফগান সেনাদের সহযোগিতায় একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রেস সচিব জন কিরবি বিস্তারিত না জানিয়ে এই সপ্তাহে এসব হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন।
আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ হওয়ার পথে। এর মধ্যে আফগানিস্তানের বহু এলাকা দখলে নিয়েছে তালেবান। বেশ কিছুদিন ধরে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তালেবানের সংঘর্ষে নিহত হন কয়েক শ মানুষ। ৩১ আগস্টের মধ্যে দেশটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই বিমান হামলা চালানো হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের এক জন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, বুধ ও বৃহস্পতিবার চারটির বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনারা। এসব হামলার মধ্যে অন্তত দুটির টার্গেট ছিল আফগান সেনাদের কাছ থেকে তালেবানের ছিনিয়ে নেওয়া সামরিক সরঞ্জাম।
জন কিরবি বলেন, ‘গত কয়েক দিনে আমরা আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করতে বিমান হামলা চালিয়েছি। কিন্তু এসব হামলার বিস্তারিত তথ্যে আমি যাচ্ছি না।’ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেন্ট্রাল কমান্ড জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি এ হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করতে এ রকম হামলা অব্যাহত থাকবে।
বুধবার মার্কিন জেনারেল মার্ক মাইলি পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আফগানিস্তানের ৪১৯টি জেলার মধ্যে প্রায় অর্ধেকের দখল এখন তালেবানের হাতে। বৃহস্পতিবার মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, মার্কিন বিমান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কান্দাহার প্রদেশে আঘাত হেনেছে। এই বিমান হামলার মাধ্যমে বাইরের ঘাঁটি থেকে আফগান বাহিনীর সমর্থনে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পূরণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে সেনা প্রত্যাহারের পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না জানালেও গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন এক বিবৃতিতে জানান, যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আফগান সরকারকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলে জানান, তালেবান জঙ্গিরা আফগানিস্তানের চার শতাধিক এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিলেও জনবহুল শহরগুলো নিতে পারেনি। সেনা প্রত্যাহারের ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো জানান, আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে সব সেনা প্রত্যাহার করার কাজ সম্পন্ন হবে।
