কুষ্টিয়ায় ছাত্রলীগ সভাপতিসহ দুই জনকে কোপাল দুর্বৃত্তরা

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২১, ২২:৪৯

কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক (২৫) ও ছাত্রলীগ কর্মী রক্তিম ঘোষকে (২২) দুর্বৃত্তরা কুপিয়েছে। গুরুতর অবস্থায় তাদের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঈদের দিন রাতে শহরের কলেজ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা ও বিলুপ্ত কমিটির সম্পাদককে দল থেকে বহিষ্কারের পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ঐ দিন রাত ১০টার দিকে ছাত্রলীগ সভাপতি অনিক ও রক্তিম মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মোড় এলাকায় অপর মোটরসাইকেল আরোহীরা তাদের গতিরোধ করে। পরে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে চাইনিজ কুড়ালসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে অনিক ও রক্তিমকে উপর্যুপরি কুপিয়ে সন্ত্রাসীরা দ্রুত চলে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত ছাত্রলীগ সভাপতি অনিকের মাথায় পাঁচটি সেলাই দেন চিকিত্সকরা। অনিক ও রক্তিম ঘোষ বতর্মানে শঙ্কামুক্ত বলে চিকিত্সকরা জানান।

এদিকে হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের জরুরি সভায় কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজের ছাত্রলীগ কমিটি বিলুপ্ত ও সংগঠনের নীতি-আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কার্যকলাপে জড়িত বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক এজাজ মাহমুদ অনিকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য নিন্দা জানিয়ে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি করেন। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ইসলামিয়া কলেজ শাখার সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বহিষ্কৃত এজাজ মাহমুদ অনিকে গ্রেফতারের পর পুলিশ বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। আক্রোশবশত পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘৃণ্য এ হামলা চালানো হয় বলে ছাত্রলীগ সভাপতি অনিক জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় অনিকের ভাই প্রকৌশলী এম সুমন সানজিদ বাদী হয়ে বহিষ্কৃত নেতা অনিসহ ১১ জনকে আসামি করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা করেন।

কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জিয়া জানান, অধিকতর গুরুত্বের সঙ্গে মামলাটির তদন্ত চলছে।