মুন্সীগঞ্জ সদরের পূর্ব শীলমন্দি গ্রামে স্বামী আরাফাত হোসেনকে গলা কেটে হত্যার পর রান্নাঘরের মেঝেতে গর্ত খুঁড়ে লাশ মাটিচাপা দিয়ে গুম করার চেষ্টা করেছিল—আদালতে এ কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন স্ত্রী আকলিমা বেগম। মুন্সীগঞ্জ সদর থানার পুলিশ চাঞ্চল্যকর আরাফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি স্ত্রী আকলিমা বেগমকে গত রবিবার বিকালে আদালতে হাজির করলে মুন্সীগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল ইউসুফ, আকলিমার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
উল্লেখ্য, মুন্সীগঞ্জ সদরের পূর্ব শীলমন্দি গ্রামের বাড়ির রান্নাঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাস পর গত ১৬ জুলাই বিকালে আরাফাতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে সেদিনই গ্রেফতার করা হয়েছিল নিহত আরাফাতের স্ত্রী আকলিমা এবং লাশ গুমে সহায়তাকারী এক যুবককে। স্ত্রীর দেওয়া তথ্যমতেই রান্নাঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে আরাফাতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মুন্সীগঞ্জসহ দেশব্যাপী চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, প্রথমে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করার পর গত ২ মে সকাল ৯টার দিকে স্বামী আরাফাত হোসেনের গলা কেটে নির্মমভাবে তাকে হত্যা করে আকলিমা। রাতে প্রতিবেশী রিয়াজ হোসেনের সহযোগিতায় বসতঘরের পাশে রান্নাঘরের মেঝের মাটি খুঁড়ে সেখানে লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখে আকলিমা। এরপর ১৫ মে মুন্সীগঞ্জ থানায় স্বামীর নিখোঁজ হওয়াসংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি করে আকলিমা বেগম। ৩০ মে একই থানায় ‘এক দল লোক তার স্বামীকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি করেছে’—এমন অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন তিনি। আকলিমার বরাত দিয়ে ওসি আরো জানান, আকলিমার স্বামীর সঙ্গে একটি মেয়ের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। সে কারণে আরাফাত স্ত্রী আকলিমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করত। এসব কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বামীকে হত্যা করে আকলিমা।
আরাফাত হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন তার স্বজন ও এলাকাবাসী। আরাফাত মোল্লার দুই ছেলে দুই মেয়ে রয়েছে। এর মধ্যে এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে।
