১৮ হলেই নেওয়া যাবে টিকা, বয়সসীমা ফের শিথিল হচ্ছে

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ০০:১৭

বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিনের আওতায় আনার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। সেই লক্ষ্যে করোনা ভাইরাসের টিকা গ্রহণের ক্ষেত্রে বয়সসীমা আবারও শিথিল করা হচ্ছে। এবার টিকা নিবন্ধনের জন্য ন্যূনতম বয়সসীমা ১৮ বছর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম। গতকাল শুক্রবার সকালে মুগদা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তবে কবে থেকে এ নিয়ম চালু হবে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারেননি। 

প্রসঙ্গত, বর্তমানে ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সিরা করোনা টিকা নিতে নিবন্ধন করতে পারেন। এর আগে দুই দফায় টিকা গ্রহণের জন্য বয়সসীমা পুনর্নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। শুরুতে টিকা গ্রহণের নিবন্ধনের বয়সসীমা ছিল ৪০ বছর। এরপর করা হয় ৩৫ বছর। সেটা শিথিল করে পরে ৩০ বছর করা হয়।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘টিকা নেওয়ার জন্য নিবন্ধনের সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর করে দেওয়া হবে। এটার ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজ (শুক্রবার) সকাল বেলা আমাকে জানিয়েছেন। আমরা এটা আমাদের কমিটিতে আলোচনা করব এবং কীভাবে এটা করা যাবে সেটা আমরা জানাব।’

এক সপ্তাহ আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও টিকা নিবন্ধনের ন্যূনতম বয়সসীমা কমিয়ে ১৮ বছর করার পরিকল্পনার কথা সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেছিলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি টিকার জন্য নিবন্ধনের বয়সসীমা কমিয়ে ১৮ বছর করার সুপারিশ করেছে। আমাদের ছেলেমেয়েদের তাড়াতাড়ি স্কুল-কলেজে পাঠাতে চাই। শিক্ষকদের টিকা দিচ্ছি, এখন ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে যারা আছে, তাদেরও টিকার আওতায় নিয়ে আসব।

খুরশীদ আলম আরো বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে তারা দ্রুত সময়ের মধ্যেই তা ১৮ বছর করার বিষয়ে কাজ শুরু করবেন। গ্রাম পর্যায়ে প্রান্তিক মানুষকে কীভাবে আরো সহজ টিকা দেওয়া যায় সে বিষয়টি নিয়ে সরকার ভাবছে বলেও জানান তিনি। নতুন করে লকডাউন শুরুর বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ঈদের আগে দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধে তেমন প্রভাব দেখা যায়নি। তবে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমণ কমেছে। আজ থেকে যে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে, সেটা কয়েক দিন গেলে বোঝা যাবে। পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। আমাদেরকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তবে এটা আমি জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই, সরকারের ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট ভালো আছে। খুরশীদ আলম বলেন, সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে দিনে ২০০ টনে পৌঁছে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে অক্সিজেনের চাহিদা থাকে ৭০ থেকে ৯০ টনের মতো। তবে দেশে এখনো অক্সিজেনের মজুত আছে এবং ভারত থেকেও আমদানি হচ্ছে।