কঠোর লকডাউন মানতেও অনীহা!

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ২১:১৭

সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী

ইত্তেফাক ডেস্ক

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে লকডাউনের দ্বিতীয় দিন শনিবার কঠোর অবস্থানে ছিল প্রশাসন। তবু কারণে, অকারণে লোকজনকে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। দোকানপাট খোলা রাখতে দেখা গেছে কোথাও কোথাও। স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছেন অনেকে।

চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে লকডাউনের দ্বিতীয় দিন শনিবার জেলা ও প্রতিটি উপজেলায় কঠোর অবস্থানে ছিল প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যবৃন্দ। শহরের লোকজনকে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি। বের হলেই জবাবদিহি করতে হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল জরিমানা করা হচ্ছে। সব শপিংমল, বিপণিবিতানগুলো বন্ধ রয়েছে। চাঁদপুর থেকে সব রুটে লঞ্চ, ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাস বন্ধ রয়েছে। মাছ ও সবজির বাজারগুলো উন্মুক্ত স্থানে বসানো হয়েছে।

চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধের দ্বিতীয় দিন গতকাল শনিবার দোকানপাট ও গণপরিবহন বন্ধ থাকে। বৃষ্টির কারণে চাটমোহরের জনজীবনও কিছুটা স্থবির হয়ে পড়ে। তবে মানুষের মধ্যে নানা অজুহাতে বাইরে বের হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। অসংখ্য মোটরসাইকেল আর অটোভ্যান ছিল রাস্তায়। চাটমোহর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড, জারদিস মোড়, ভাদরা বাইপাস, থানা মোড়সহ রাস্তার বিভিন্ন স্থানে পুলিশের জেরার মুখে পড়েছে মানুষ। এদিকে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে লকডাউন বাস্তবায়নে শনিবার মাঠে নামে পুলিশ। সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ দেখাতে না পারলে পুলিশ মোটরসাইকেল আটক করে। উপজেলার বিভিন্ন সড়কে চলেছে ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান। প্রতিটি অটোভ্যানেই চার থেকে ছয় জন যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে। মানা হয়নি কোনো স্বাস্থ্যবিধি। কোথাও কোথাও চা ও কাপড়ের দোকানসহ অন্যান্য দোকানে সামান্য সাটার খোলা রেখে দোকানিকে বাইরে অবস্থান করতে দেখা গেছে। ক্রেতা আসলেই ভেতরে নেওয়া হচ্ছে। সহকারী পুলিশ সুপার সজীব শাহরিন জানান, পুলিশের কড়া নজরদারি চলছে। অপ্রয়োজনে বাইরে বের হলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক আবু নঈম মোহাম্মদ মারুফ খানের নির্দেশনায় শনিবার সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, নরসিংদী জেলা সদর, মাধবদী, শিবপুর, রায়পুরা, পলাশ, বেলাব ও মনোহরদী উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ। নরসিংদীতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৬০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. মো. নূরুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। সংক্রমণ প্রতিরোধে মানুষজনকে ঘরে রাখতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অযথা বাইরে আসা লোকজনকে জিজ্ঞাসার মুখে পড়তে হচ্ছে। কোনো ক্ষেত্রে জেল ও জরিমানাও দেওয়া হচ্ছে। তবে বিভিন্ন সড়কে সীমিত আকারে রিকশা ও ইজিবাইক চলাচল করতে দেখা যায়। সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান বলেন, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ঘরে বাইরে বের হলে জরিমানা বা বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি ও ঘরে থাকার অনুরোধ করছি। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. রমিজ আলম বলেন, আমরা সরকারি বিধি মোতাবেক কাজ করে যাচ্ছি। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় কাউকে থাকতে দিচ্ছি না আমরা।

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। লকডাউনের প্রথম দিনে উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাট বন্ধ থাকলেও শনিবার সকাল থেকে সদর ও বিভিন্ন হাটবাজারে এসব খোলা রাখা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে লোকজনকে ভিড় করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করা ও লকডাউনে আইন অমান্য করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার অপরাধে ১৯ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১৯ মামলায় অর্থদণ্ড করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।