গোলাম মোস্তফা আনছারী, স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর
করোনাকালীন প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পেয়ে বদলে গেছে রংপুরের চিড়িয়াখানা। করোনা সংক্রমণের কারণে দর্শনার্থীদের প্রবেশপথে ঝুলছে তালা। বন্ধ রয়েছে মানুষের কোলহল ও চলাফেরা। ভেতরে কোলাহলমুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে বাস করছে পশু ও পাখপাখালি। প্রাণীগুলোর প্রাণচাঞ্চল্য বেড়েছে। নীরব, নিস্তব্ধ পরিবেশে খাঁচাবন্দি পশু-পাখির বেড়েছে প্রজনন ক্ষমতা। অনেক প্রাণী দম্পতির ঘরে এসেছে নতুন অতিথি। আগত সন্তানের মুখ দেখার অপেক্ষায় রয়েছে কুমির, জলহস্তি, সিংহ ও ঘড়িয়ালসহ আরো অনেক প্রাণী। রংপুরের চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, করোনাকালে চিড়িয়াখানার ভেতরের পরিবেশ অনেকটাই বদলে গেছে। খাঁচাবন্দি পশু-পাখির জন্য এই পরিবেশ বেশ উপভোগ্য। দর্শনার্থীর হৈ-হুল্লোড় ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশে বাচ্চা দিয়েছে বেশকিছু প্রাণী। এখন খাঁচাবন্দি পশু-পাখিগুলো আনন্দে খুনশুটিতে মেতে আছে। মানুষের ভিড় থাকলে এমন উচ্ছ্বাস দেখা যায় না।
জানা গেছে, উন্মুক্ত পরিবেশে ডিম দেওয়া মদনটেক এবার বন্দিদশায় ডিম পেড়েছে। সেই ডিম থেকে বাচ্চাও হয়েছে। ঘরে নতুন অতিথি এসেছে ঘোড়া, হরিণ, গাধা, বানর, ময়ূরসহ আরো বেশকিছু প্রাণীর। এর মধ্যে গাধা একটি, বানর দুটি, হরিণ পাঁচটি, ময়ূর আটটি করে নতুন অতিথি জন্ম দিয়েছে। কুমির ও ঘড়িয়ালেরও সময় হয়েছে ডিম দেওয়ার। সারাক্ষণ পানিতে খেলা করা জলহস্তিটিও মা হতে চলেছে। সিংহির বাচ্চা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বয়স্ক সিংহ। আর উটপাখি সাতটি ডিম দিলেও পুরুষ সঙ্গীর অভাবে ডিমগুলো ফোটানো সম্ভব হয়নি। নতুন অতিথিদের দেখভালে ব্যস্ত চিড়িয়াখানার কর্মচারীরা। তারা বলছেন, চিড়িয়াখানা এখন দর্শনার্থীশূন্য। নীরবতা আর স্নিগ্ধ পরিবেশে ভিন্ন ভিন্ন রূপ-বৈচিত্র্যের প্রাণীগুলো রয়েছে বেশ আনন্দে। দীর্ঘ সময় ধরে এমন কোলাহলমুক্ত পরিবেশ খুব কমই পেয়েছে এসব প্রাণী। নতুন বাচ্চার সঙ্গে খুনশুটিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে সবাই। রংপুর চিড়িয়াখানার কেয়ারটেকার আনিস বলেন, আমরা খুবই আনন্দিত। অনেকগুলো নতুন অতিথি জন্ম দিয়েছে বিভিন্ন প্রাণী। ইতিমধ্যে ঘোড়া, হরিণ, গাধা, বানর, ময়ূরসহ আরো বেশকিছু প্রাণী জন্ম দিয়েছে নতুন অতিথি। আরো কিছু পশু-পাখির সম্ভাবনা রয়েছে। তিন মাস আগে মা উটপাখি ডিম দিয়েছিল। কিন্তু পুরুষ উটপাখির অভাবে ডিমগুলো অফুটন্ত থাকায় নষ্ট হয়ে গেছে।
রংপুর বিনোদন উদ্যান ও চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা ডা. এইচ এম শাহাদাত্ শাহিন বলেন, করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকারি নির্দেশনায় চিড়িয়াখানাতে দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে। এখন কোলাহলমুক্ত পরিবেশে পশু-পাখিদের প্রজনন ক্ষমতা বেড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে এরকম সুযোগ খুবই কম হয়। রংপুর চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর আম্বর আলী তালুকদার বলেন, পশু-পাখিরা নীরব নিস্তব্ধ পরিবেশে থাকতে চায়। এখন সেই পরিবেশ বিরাজ করছে। নিরাপদ প্রজননের জন্য এটা ভালো পরিবেশ। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রাণী ১৪টি বাচ্চা দিয়েছে। আরো কিছু প্রাণী সন্তানসম্ভবা ও ডিম দেওয়ার সময় হয়েছে। তিনি আরো বলেন, রংপুর চিড়িয়াখানায় নতুন করে একটি মেয়ে হনুমান, একটি পুরুষ উটপাখি, জিরাফ, জেব্রা, একজোড়া কেশওয়ারি, একজোড়া বাঘসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে অল্প সময়ের মধ্যে আরো কিছু নতুন প্রাণী বাড়বে। সেই সঙ্গে জোড়া মিললেই বাড়বে আরো প্রজনন বন্দি প্রাণীকুলের।
