সরিষাবাড়ী (জামালপুর) সংবাদদাতা
সরিষাবাড়ীর শিশুয়া বাঘমারা ব্রিজের পশ্চিম পাশে সংযোগ সড়কের একাংশ ধসে গেছে। গত মাসের শেষের দিকে পানির তীব্র চাপে সড়কের একাংশে ধসে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন এ পথে চলাচলকারীরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত বন্যায় ভেঙে যাওয়ার পর সড়কে পরিপূর্ণ কাজ না হওয়ায় এবারও হুমকির মুখে রয়েছে ব্রিজ ও সংযোগ সড়ক। বর্তমানে সড়কটি যে অবস্থায় আছে আসন্ন বন্যায় আবারও সংযোগ সড়ক ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে সংযোগ সড়কের সংস্কার কাজের দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, আরামনগর বাজার প্রধান সড়ক থেকে উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চল ও সরাসরি মাদারগঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। যে সড়কটিতে ঝারকাটা ঝিনাই নদীর ওপর নির্মিত শিশুয়া বাঘমারা ব্রিজ। ব্রিজের পশ্চিম পাশের সড়কটি বিগত বন্যায় ভেঙে গিয়ে সাতপোয়া ইউনিয়নসহ মাদারগঞ্জ, বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের প্রায় ৪০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের সরিষাবাড়ীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে তাত্ক্ষণিক একটি বরাদ্দ দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হলেও এবারের বন্যায় সড়ক ও ব্রিজ দুটোই হুমকির মুখে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সামু ও সোজল উদ্দিনসহ অনেকেই জানান, গত বন্যায় ব্রিজের পশ্চিম পাশের সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে এলাকাবাসী স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে ব্রিজের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে সড়কটি যে অবস্থায় আছে আসন্ন বন্যায় আবারও সংযোগ সড়ক ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, আমার জানামতে জিও ব্যাগভর্তি বালিসহ কয়েক ধাপে ৯ হাজার বস্তা বালি ফেলা হয়েছে। এসব দিয়ে তেমন কোনো কাজ হবে না। বন্যা আসার আগে জরুরি ভিত্তিতে ঐ ব্রিজের সঙ্গে সংযোগ একটি বেইলি ব্রিজ স্থাপন করা হলে সংকট কেটে যাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রকিবুল হাসান বলেন, গত বন্যায় ব্রিজের সংযোগ সড়ক ভাঙার পর বালি ফেলা হয়েছে। ব্রিজটি হুমকির মুখে, জনসাধারণের চলাচলের জন্য আপাতত সাঁকোর ব্যবস্থা করা হবে। মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে। শুকনো মৌসুমে ব্রিজের একটি স্প্যান বর্ধিত করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
