প্রগতির পথে অন্তরায় শিশুশ্রম

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ২১:৩৯

বর্তমান সময়ে শিশুশ্রম একটি বৈশ্বিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনাকালীন যা হয়ে উঠেছে আরো ভয়াবহ। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ এবং বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সি সব বাংলাদেশি ব্যক্তিকে শিশু হিসেবে গণ্য করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয় শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী ১৪ বছরের কম বয়সি শিশুদের কাজ করানো হলে তা শিশুশ্রমের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। জাতিসংঘের তথ্যমতে করোনাকালীন শিশুশ্রম অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) ও শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ যৌথভাবে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের শুরুতে বিশ্বে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১৬ কোটিতে যেটি ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যবর্তী সময়ে কমে ৯ কোটি ৪০ লাখে নেমে এসেছিল। করোনা মহামারিতে দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুশ্রম বাড়ছে। পরিবারের খরচ যোগাতে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুরা কাজে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণেও তাদের পরিবার সন্তানদের বাসায় বসিয়ে না রেখে কাজে পাঠানোটাকে উত্তম মনে করছেন। যদি করোনা পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকে তবে ২০২২ সালে আরো ৯০ লাখ শিশু শিশুশ্রমে যুক্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শিশুশ্রমে নিযুক্ত শিশুদের ৭০ শতাংশ কৃষি খাতে নিয়োজিত আর বাকিদের মধ্যে ২০ শতাংশ সেবা খাতে এবং ১০ শতাংশ শিল্প খাতে নিয়োজিত রয়েছে।

আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবে শিশুশ্রম দিনদিন বেড়ে যাচ্ছে। কম মজুরিতে শ্রমিক নিয়োগ দিতে পারায় কিছু স্বার্থান্বেষী কারখানা মালিক কম বয়সি কিশোরদের কম বেতনে কাজে নিয়োগ দেয়। বিভিন্ন সময় ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করে এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫২ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয় যার অধিকাংশই ছিল শিশু। শিশুশ্রম বৃদ্ধির ফলে শিশুদের যথাযথ শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। শিশুশ্রমের ফলে শিশুদের দৈহিক ক্ষতি এবং মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। শৈশবে শিশুরা ধর্মীয় অনুশাসন এবং সামাজিকতার শিক্ষা লাভ করবে কিন্তু সেই সময়টাতে যদি শিশু কারখানার ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকে তাহলে সে নৈতিকতার শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। সঠিক শিক্ষার অভাবে তাদের নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটবে। শহরাঞ্চল থেকে গ্রামাঞ্চলে শিশুশ্রমের হার বেশি। গ্রামাঞ্চলে শিশুদের শিশুশ্রমে নিযুক্ত হওয়ার হার ১৪ শতাংশ যেখানে শহরাঞ্চলে ৫ শতাংশ। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ অশিক্ষিত হওয়াতে তারা শিশুশ্রমের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে অজ্ঞ। শিশুদের সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য নিরাপদ শৈশবের প্রয়োজনীতা সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান না থাকায় দিনদিন গ্রামাঞ্চলে শিশুশ্রম বেড়েই চলেছে। যে বয়সে শিশুদের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুল যাওয়ার কথা, মাঠে-ঘাটে খেলাধুলায় মেতে থাকার কথা সে বয়সেই তাদের কাঁধে সংসারের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের শিশুদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করতে হবে। তারা যাতে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সচেতন নাগরিক হতে পারে সে পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মনে রাখতে হবে সুশীল সমাজ বিনির্মাণে সচেতন নাগরিকের গুরুত্ব অপরিসীম।

n শিক্ষার্থী : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া