দেশে করোনা ভাইরাসে গত ছয় দিনে ১ হাজারের বেশি মারা গেছেন। গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৯ হাজার ৪৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ২১ হাজারের মতো নমুনা পরীক্ষা করে ৬ হাজার ৭৮০ জনের দেহে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪৪।
সরকারি হিসাবে এক দিনে সেরে উঠেছেন ৯ হাজার ৭৮২৩ জন। তাদের নিয়ে এই পর্যন্ত সুস্থ হলেন ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৩৩৯ জন। করোনা ভাইরাসের ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তারে মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত কিছু দিন ধরেই দিনে ২০০-এর মতো মৃত্যুর খবর আসছে। ঈদের ছুটির মধ্যে নমুনা পরীক্ষা কমে যাওয়ায় রোগী শনাক্ত কমলেও মৃত্যু আগের মতোই রয়েছে। এক দিনে রেকর্ড ২৩১ জনের মৃত্যু ঘটেছিল গত ১৯ জুলাই। সেদিনই মৃতের সংখ্যা ১৮ হাজার ছাড়িয়েছিল। তার ছয় দিনে মৃতের তালিকায় আরো ১ হাজার যোগ হলো। দেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত বছরের ১০ জুন তা ১ হাজার ছাড়ায়। এরপর তা ৫ জুলাই ২ হাজার, ২৮ জুলাই ৩ হাজার, ২৫ আগস্ট ৪ হাজার, ২২ সেপ্টেম্বর ৫ হাজার ছাড়ায়। এরপর কমে আসে দৈনিক মৃত্যু। ৪ নভেম্বর ৬ হাজার, ১২ ডিসেম্বর ৭ হাজারের ঘর ছাড়ায় মৃত্যুর সংখ্যা। এ বছরের ২৩ জানুয়ারি ৮ হাজার এবং ৩১ মার্চ মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়ায়। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর ১৫ দিনেই ১ হাজার কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু ঘটে, গত ১৫ এপ্রিল মৃতের মোট সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর পরের ১ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটাতে আরো কম, মাত্র ১০ দিন সময় নেয় করোনা ভাইরাস; মোট মৃতের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়ে যায় ২৫ এপ্রিল। তার ১৬ দিন পর ১১ মে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু ১২ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এক মাসের মাথায় ১১ জুন তা পৌঁছায় ১৩ হাজারে। আরো ১৫ দিন পর ২৬ জন মৃতের মোট সংখ্যা ১৪ হাজার ছাড়ায়। আট দিনে আরো ১ হাজার মানুষের মৃত্যুতে ৪ জুলাই সেই সংখ্যা ১৫ হাজারে যায়। এরপর প্রতি পাঁচ দিনে ১ হাজার করে মানুষের মৃত্যু ঘটায় করোনা ভাইরাস। মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯ জুলাই ১৬ হাজার, ১৪ জুলাই ১৭ হাজারে, ১৯ জুলাই ১৮ হাজারে পৌঁছায়।
দেশে কোরবানির ঈদের ছুটিতে নমুনা পরীক্ষা এক-চতুর্থাংশে নেমে আসায় বৃহস্পতিবার শনাক্ত কোভিড রোগীর সংখ্যা এক ধাক্কায় নেমে এসেছিল এক মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ঈদের ছুটির আগে যেখানে দিনে ৪০ হাজারের মতো নমুনা পরীক্ষা হতো তা কমে ২০ হাজারে এসে ঠেকেছিল। এখন নমুনা পরীক্ষা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। শুক্রবার ২০ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা করে ৬ হাজার ৩৬৪ জনের দেহে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। শনিবার ২০ হাজার ৮২৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ৬ হাজার ৭৮০টিতে সংক্রমণ ধরা পড়ে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৫৫ শতাংশে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে নমুনা পরীক্ষা ২৯ শতাংশ কমেছে, এর পাশাপাশি রোগী শনাক্তের হারও কমেছে ২৬ শতাংশ। মৃত্যুর সংখ্যা ৭ শতাংশ কমেছে। গত এক দিনে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা জেলায় ৩ হাজার ৭৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকা জেলায় ৩৭ জনের। গত এক দিনে সবচেয়ে বেশি কোভিড-১৯ রোগী মারা গেছে ঢাকা বিভাগে ৬৮ জন। এরপরে সর্বাধিক মৃত্যু ঘটেছে খুলনা বিভাগে ৪১ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে মৃত্যু ঘটেছে ৩৬ জনের। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ১৮ জন, রংপুর বিভাগে ১৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ জন, বরিশাল বিভাগে পাঁচ জন ও সিলেট বিভাগে এক জনের মৃত্যু ঘটেছে। মৃত ১৯৫ জনের মধ্যে ৪৭ জনের বয়স ছিল ৬১ থেকে ৭০ বছর।
