চট্টগ্রামে হাসপাতালে করোনা রোগীর চাপ বাড়ছে। নগরীর সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে নরমাল বেডও খালি নেই। আইসিইউতে যে পরিমাণ রোগী ভর্তি আছে তার সমপরিমাণ সিট খালি হওয়ার জন্য সিরিয়ালে অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে করোনা রোগীর চাপ আরো বাড়তে পারে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন। নমুনা পরীক্ষায় শহরে ও গ্রামে সবখানে আক্রান্ত বেড়েছে। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে বেশি জটিল রোগীদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রামে করোনা রোগীর সবচেয়ে বড় চিকিত্সা কেন্দ্র চমেক হাসপাতাল। এখানে করোনা রোগীর জন্য ৩০০ নরমাল বেড ও ১০টি আইসিইউ বেড রয়েছে। কোনো বেডই খালি নেই। আবার সরকারি এই হাসপাতালে রোগী আসলে ফেরতও দেওয়া যাচ্ছে না। করোনা রোগীর চাপ সামাল দিতে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আক্রান্ত রোগীরা প্রথমেই চমেক হাসপাতালে চিকিত্সা দিতে আসছে। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ূন কবির ইত্তেফাককে বলেন, ‘গত কয়েক দিন যাবত হাসপাতালে করোনা রোগীর চাপ বেড়েছে। আইসিইউ বেড খালি নেই, নরমাল বেডও দেওয়া যাচ্ছে না। নরমাল বেড আরো বাড়ানো হতে পারে। আমরা অক্সিজেন সরবরাহের জন্য হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার সাপোর্ট বৃদ্ধির চেষ্টা করছি।’
এদিকে সরকারিভাবে খুলশী এলাকায় করোনা রোগীর চিকিত্সার জন্য হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে। জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে এই হাসপাতালে চিকিত্সা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা কেন্দ্রীয়ভাবে না থাকায় রোগীরা ভর্তি হতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বর্তমানে হলি ক্রিসেন্টে নরমাল বেডে ১৫ জন ও আইসিইউতে তিন জন রোগী চিকিত্সাধীন আছে।
ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ড রোগীতে পরিপূর্ণ। সরকারি এই হাসপাতালে বর্তমানে সাধারণ বেডে ৪০ জন ও আইসিইউ বেডে চার জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এখানে আইসিইউ বেডের সঙ্গে ভেন্টিলেটর যুক্ত নেই। হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার মাধ্যমে আইসিইউ বেড সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীর ১৫০টি নরমাল বেডের মধ্যে কোনো বেড খালি নেই। ১৮টি আইসিইউ বেডেও রোগী ভর্তি রয়েছে।
এদিকে নগরীর বেসরকারি পর্যায়ে ভালো মানের হাসপাতালে কোনো বেড খালি নেই। করোনা চিকিত্সার জন্য বেসরকারি কিছু ক্লিনিকে করোনা চিকিত্সার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু রোগীরা এসব চিকিত্সা কেন্দ্র নিরাপদ মনে করছে না। চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ২৭টি আইসিইউ ও এইচডিইউ বেড এবং ২০০টি নরমাল করোনা রোগী বেড রয়েছে। কোনো বেডই খালি নেই। বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. রেজাউল করিম ইত্তেফাককে বলেন, করোনা রোগীর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। আমরা শয্যা বাড়িয়ে ৮৫টি কেবিন ও ১১টি আইসিইউ বেড করেছি। তার মধ্যে কোনো বেডই খালি নেই। রোগী ফেরত দিতে হচ্ছে। আইসিইউ বেডের জন্য তদবির সামাল দিতে পারছি না। যারা চিকিত্সা নিতে আসছে সবার অবস্থা ক্রিটিক্যাল। জটিলতা বেড়ে গেলেই রোগী হাসপাতালে ভর্তি হতে আসছে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রামে সরকারি, বেসরকারি সব হাসপাতালে করোনা রোগীর চাপ বেড়েছে। চমেক হাসপাতালে ৩০০ বেড থেকে বাড়িয়ে ৪০০ বেড করার চিন্তা ভাবনা চলছে। আগামী কয়েক দিন রোগীর চাপ আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানুষ সচেতন না হলে হাসপাতালে শয্যা বাড়িয়ে লাভ হবে না। মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
জানা গেছে, উপজেলাগুলো থেকে আসা প্রচুর করোনা রোগী নগরীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছে। এসব রোগীর মধ্যে অধিকাংশের অবস্থা জটিল। তাদের অক্সিজেনের বেশি প্রয়োজন হচ্ছে। আগেভাগে না আসায় অনেক রোগীর অবস্থা জটিল হয়ে পড়েছে। রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুর আলম দীন বলেন, মোট নমুনা পরীক্ষার ৬০ শতাংশ করোনার পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছে।
