সম্মুখসারির যোদ্ধাদের পরিবারের ১৮ ঊর্ধ্বরা টিকা পাবেন :স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ২২:৪৩

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, করোনা ভাইরাস মহামারি ঠেকাতে সম্মুখসারিতে কাজ করা পেশাজীবীদের পরিবারের ১৮ বছরের বেশি বয়সি সদস্যরা করোনা ভাইরাসের টিকা পাবেন। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুরক্ষা অ্যাপে গিয়ে তারা যেন নিবন্ধন করতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক আয়োজিত ‘কোভিডের ৩য় ঢেউ মোকাবিলায় কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি প্রতিরোধ, অক্সিজেন সংকট,       হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা ও শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি আরো বলেন, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বিঘ্ন রাখতে এবং অধিকাংশ নাগরিককে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসতে এখন থেকে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে দেশের সব নাগরিককেই ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারের হাতে ১ কোটির ওপরে ভ্যাক্সিন রয়েছে। এছাড়া দেশে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ২১ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে চীনের ৩ কোটি, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি, কো-ভ্যাক্সের ৭ কোটি ডোজ, রাশিয়ার ১ কোটি ডোজ ও জনসন অ্যান্ড জনসনের ৭ কোটি ডোজ রয়েছে। আগামী বছরের সেকেন্ড কোয়ার্টারের মধ্যে জনসনের ভ্যাকসিন দেশে আসবে। এই ২১ কোটি ডোজ যদি সময় মতো পাই, তাহলে ৮০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে। তিনি আরো বলেন, ‘আগামী ২৬ বা ২৭ জুলাই চীন থেকে সিনোফার্মের ৩০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন আসবে। বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে ২৬টা ফ্রিজার পাবে। মাইনাস ৭০ থেকে ৮০ ডিগ্রি টেম্পারেচারের যেসব ভ্যাকসিন আসবে সেগুলো এসব ফ্রিজারে রাখা হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে নন-ভ্যাকসিনেটেড রোগী হলো ৯০ শতাংশ। ফলে ভ্যাকসিন না নেওয়ার কারণেই তারা সংক্রমিত হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর ৭৫ শতাংশই গ্রামের এবং তারা ৯০ শতাংশই নন-ভ্যাকসিনেটেড এবং সবই বয়স্ক  লোক। আমরা যদি গ্রামগঞ্জে বয়স্ক লোকদের গুরুত্বের সঙ্গে ভ্যাকসিন দিতে পারি, ভ্যাকসিন সেন্টারে তাদের নিয়ে আসতে পারি, তাহলে আমাদের রোগী সংখ্যা এবং মৃত্যুর সংখ্যা কমবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সভায় কোভিড মোকাবিলায় দেশের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোর অবদানের কথা উল্লেখ করেন। এক্ষেত্রে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের কাছে কোভিডের ৩য় ধাপ মোকাবিলায় আরো বেড সংখ্যা বৃদ্ধির অনুরোধ জানালে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে সভাপতি ডা. মুবিন খান স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অন্তত ২ হাজার নতুন কোভিড ডেডিকেটেড বেড বৃদ্ধি করার আশ্বাস দেন। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা, এ বি এম খুরশিদ আলম, জাপান ইস্ট ওয়েস্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বিপিএমসিএ-এর চেয়ারম্যান ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, গ্রীণ লাইফ মেডিক্যাল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিপিএমসিএ-এর সহ-সভাপতি ডা. মাঈনুল আহসান, পপুলার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান এবং বিপিএমসিএ-এর সহ-সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান এবং বিপিএমসিএ-এর সাধারণ সম্পাদক ড. আনোয়ার হোসেন খান এমপি, ইউনিভার্সাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক প্রীতি চক্রবর্ত্তী প্রমুখ।