কামরাঙ্গীরচরে মা-মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২১, ২২:৪৩

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে মা-মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার সকালে নয়াগাঁও ৩ নম্বর গলির একটি বাসা থেকে পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে। নিহতরা  হলেন মা ফুল বাসি চন্দ্র দাস (৩৪) ও মেয়ে সুমি চন্দ্র দাস (১২)।

পুলিশ জানিয়েছে, তাদের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে রশি ও পলিথিনের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন হিসেবে ফুল বাসির স্বামী মুকুন্দ চন্দ্র দাস (৩৬) ও বড় মেয়ে ঝুমা রানী দাসকে (১৪) আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, মুকুন্দ চন্দ্র ভ্যানগাড়িতে করে সবজি বিক্রি করেন। মাঝে মাঝে তিনি ঠেলাগাড়িও চালাতেন। আবার দিনমজুরও করতেন। তাদের বাড়ি কুমিল্লায়। ১০ বছর ধরে কামরাঙ্গীরচরে টিনশেড ছোট একটি কক্ষে তারা ভাড়া থাকতেন। ছোট কক্ষের খাটে মা ও দুই মেয়ে ঘুমাতেন।          মেঝেতে বাবা ঘুমাতেন। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার দিবাগত রাতের  কোনো এক সময় শ্বাসরোধ করে ফুল বাসি ও মেয়ে সুমি চন্দ্র দাসকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে শনিবার ভোর ৫টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে।

পরিবার ও প্রতিবেশীদের বরাতে তিনি বলেন, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঝুমা ঘুম থেকে উঠে মা ও বোনকে অস্বাভাবিকভাবে পড়ে থাকতে দেখে চিত্কার দেয়। প্রতিবেশীরা গিয়ে দেখেন, তারা দুজন মৃত। তারাই পুলিশে খবর দেন।

ওসি আরো বলেন, ঝুমা রানী দাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশকে ঝুমা জানিয়েছে, শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে তার ছোট বোনের পা দিয়ে তার পায়ে আঘাত করে। এতে তার ঘুম ভেঙে যায়। বিছানা থেকে উঠে দেখেন তার বাবা পলিথিনের ব্যাগ দিয়ে মায়ের মুখে গুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তখন বাবার কাছে কারণ জানতে চাইলে বলেন, বমি হচ্ছিল বলে মুখে পলিথিন দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ কথা শুনে ঝুমা রানী আবারও ঘুমিয়ে যায়। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঘুম ভেঙে গেলে বিছানায় মা ও বোনকে ঘুম থেকে তোলার চেষ্টা করে। তারা কোনো সাড়া শব্দ না দিলে সে চিত্কার দেয়। এরপরই প্রতিবেশীরা ছুটে আসে।

ওসি জানান, দুই মরদেহ বিছানায় পড়ে ছিল। তবে কীভাবে মৃত্যু হয়েছে তা এখনো বোঝা যাচ্ছে না। মুকুন্দ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ঘটনার পর তিনি ছারপোকা মারার কীটনাশক সেবন করেন। এ কারণে তিনি কথাবার্তা ঠিকমতো বলছেন না। তাকে চিকিত্সার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মৃত দুই জনের গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।