একে তো লকডাউন চলছে, তার ওপর বৃষ্টি। ফলে অনেকটাই ফাঁকা রাজধানীর রাস্তাঘাট। তবে ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরা মানুষের ঢল কমছে না। গণপরিবহন না চলায় পায়ে হেঁটে, রিকশা-ভ্যানে করে তারা ঢাকায় আসছেন। গতকাল শনিবার ছিল ‘কঠোরতম লকডাউনের’ দ্বিতীয় দিন। ঢাকায় মানুষের চলাচল বাড়লেও রাস্তায় বের হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জেরার মুখে পড়তে হয়েছে তাদের।
সকালে মিরপুর সড়কে অনেক রিকশা চলতে দেখা গেছে। পুলিশ সদস্যরা থাকলেও তাদের ‘মানবিক’ মনে হয়েছে রিকশাচালক মো. ফরহাদের। তিনি বলেন, সকাল থেকে তার ৫০০ টাকার মতো আয় হয়েছে। পুলিশ দেখেও কিছু বলেনি।
‘কঠোরতম লকডাউনের’ মধ্যেও শিমুলিয়া হয়ে পদ্মা পার হচ্ছে ঢাকামুখী অনেক মানুষ। গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তাদের মধ্যে অনেকের বিচার হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতে। তাদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। ফেরিতে পণ্যবাহী গাড়ির ফাঁকে দাঁড়িয়ে পদ্মা পার হতে দেখা গেছে অনেককে।
গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রিকশাচালকরা ছাড় পেলেও গাড়ি থামিয়ে চালকদের জেরা করেন পুলিশ সদস্যরা। প্রয়োজনের কথা বলে অনেকে পার পেলেও কাউকে কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সকাল ১০টার দিকে গাবতলীতে ব্যাটারিচালিত এক অটোরিকশা আটক করে ডাম্পিংয়ে দিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। সেখানে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট আলী আহমেদ উপস্থিত সাংবাদিকদের বললেন, এই গাড়ি চলা নিষিদ্ধ। তাই ডাম্পিংয়ে দিয়েছি।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মালিক মমিনুল হক দাবি করেন, রোগীর স্বজনের অনুরোধে রোগীকে সাভার থেকে ঢাকায় আনতে তিনি গাড়িটি বের করেছিলেন। তিনি বলেন, আমার স্ত্রী নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা, দুটি শিশুসন্তানও রয়েছে। ৯৯ হাজার টাকা ঋণ করে গাড়ি কিনেছি, লকডাউন জেনেও বিপদে পড়ে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলাম, এখন আমার কী হবে?
গতকাল আমিনবাজার সেতু পার হয়ে শত শত মানুষকে সকালে হেঁটেই ঢাকায় ঢুকতে দেখা গেছে। পথে প্রায় সবাইকে পুলিশের জেরার মুখোমুখি হতে হয়েছে। বগুড়া থেকে আসা একটি ওষুধ কোম্পানির কর্মচারী আমিরুল ইসলাম বলেন, বগুড়া থেকে মোটর সাইকেলে করে সাভারের আমিনবাজারে নামি। এরপর হেঁটে ব্রিজ পার হই। তার প্রতিষ্ঠান জরুরি সেবার মধ্যে থাকায় পুলিশ পথের মধ্যে আটকালেও কিছু বলেনি।
গতকাল কাঁচাবাজারগুলো যথারীতি খোলা দেখা গেছে অন্যদিনের মতো। তবে ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলক কম। প্রধান সড়কে দোকানপাট বন্ধ থাকলেও অলিগলিতে দোকানে কেনাবেচা হতে দেখা যায়। পুরান ঢাকা, আজিমপুর, লালবাগ, বকশীবাজার, নিউমার্কেট ও পলাশী মোড়ের অলিগলিতে মানুষ, ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা শুক্রবারের চেয়ে বেশি চলাচল করতে দেখা গেছে। অলিগলিতে ভ্যানগাড়িতে, ফল আর সবজির পসরার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে মানুষের আনাগোনা। তবে মহল্লার অনেক দোকান এখনো বন্ধ।
এদিকে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়ায় বসানো হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। লৌহজং উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাউসার হামিদ জানিয়েছেন, আমরা জরুরি পরিষেবার যান অথবা পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া পার হতে দিচ্ছি না। যৌক্তিক কারণ ছাড়া কাউকে মুভ করতে দিচ্ছি না। মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে কঠোরভাবে নির্দেশনা অনুযায়ী লকডাউন বাস্তবায়ন করছি। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে আমরা জরিমানা করছি।
ফেরিতে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে পদ্মা পার হয়ে শিমুলিয়া আসা যাত্রীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেটা তাদের আওতায় নেই। তবে ঘাটে আসা যাত্রীদের আমরা স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে সচেতন করছি। সকাল থেকে ঘাট এলাকায় মাইকিং করছি। মাস্ক না পরলে বা স্বাস্থ্যবিধি না মানলে জরিমানা করছি। সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৭১ মামলায় ১০ লাখ ৫১ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একজনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্য লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করছে।
