মাইক্রোবাসের সামনে-পেছনে লাল রঙ দিয়ে বড় অক্ষরে লেখা ‘লাশবাহী’। তবে মাইক্রোবাসে ছিল না কোনো মরদেহ। উলটো এই মাইক্রোবাসেই উঠানো হচ্ছিল যাত্রী। ঢাকায় যাত্রী নিয়ে ফিরছিল ‘ঢাকা মেট্রো-শ ১১-১৭৮৮’ নম্বরের এই মাইক্রোবাসটি। এটি গত শুক্রবারের রাজশাহীর ভদ্রা মোড়ের চিত্র। শনিবারও নগরীর ভদ্রা ও তালাইমারী মোড়ের অদূরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী মাইক্রোবাসে চলছে যাত্রী পরিবহন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘লাশবাহী’ মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সগুলোর চালকরা রাস্তায় যাত্রীর জটলা দেখলেই গতি কমিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে গন্তব্য জানতে চান। সুবিধামত রুটের যাত্রী হলেই শুরু হয় ভাড়ার দরদাম। কঠোর লকডাউনেও মেডিক্যাল সার্ভিস লকডাউনের আওতামুক্ত থাকার এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে এই গোপন সার্ভিস। এ বিষয়ে জানতে চাইলে, ঐ মাইক্রোবাসের চালক কোনো উত্তর দেয়নি। এমনকি নিজের নাম-পরিচয়ও প্রকাশ করেনি। তবে যাত্রীরা জানায়, তারা ঢাকায় যাচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিরোইল এলাকার কয়েকজন জানান, বিগত লকডাউন অর্থাত্ ঈদুল ফিতরের সময়েও ট্রেন ও বাস চলাচল বন্ধ ছিল। ঐ সময় এভাবেই রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা ‘লাশবাহী’ মাইক্রোবাসে ৫০০ টাকার স্থলে জনপ্রতি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা ভাড়ায় ঢাকায় গেছেন অনেকে।
এবার ঈদুল আজহার পর শুক্রবার থেকে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে। এদিন সকাল থেকে দেখা মেলেনি কোনো যানবাহনের। এছাড়া রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ও বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কগুলো একইবারে ফাঁকা। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ছিল পুলিশের চেকপোস্ট। তবে সারাদিন নগরীর বিভিন্ন সড়ক দিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আসা-যাওয়া করেছে প্রচুর অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়ি। রামেক হাসপাতালে রোগী রেখে ফেরার পথে যাত্রী তুলেছেন অধিকাংশ অ্যাম্বুলেন্সের চালক।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স’ ও লাশবাহী গাড়িগুলো হাসপাতালে দ্রুত যাওয়ার তাড়া থাকে। তাই মানবিক দিক বিবেচনায় তাদের থামানো হয় না। অধিকাংশ সময় করোনা আক্রান্ত রোগীও থাকে সে দিকটি বিবেচনা করে পুলিশ সদস্যরা মরদেহ কিংবা রোগীর স্বজনদের কাছে যেতে চায় না। তিনি বলেন, ‘রোগী ও লাশবাহী’ অ্যাম্বুলেন্সে যাত্রী নিয়ে যাতায়াতের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
