একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনও সুষ্ঠু করতে চান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। ঢাকার দুই সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাহী হাকিমদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘আমরা চাই, আপনাদের পরিচালনায় ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে, যেমনটি হয়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।’ গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাহী হাকিমদের ব্রিফিং অনুষ্ঠানে সিইসি এ কথা বলেন।
কর্মকর্তাদের সতর্কভাবে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দিয়ে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচনে কে জয়ী হলো, সেটা আপনাদের দেখার বিষয় নয়। আপনাদের দেখার বিষয় হলো আচরণবিধি তারা কিভাবে পালন করছে।
জনগণ যাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন, তিনিই হবেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। আইনানুগ নির্বাচন করতে হবে। আপনাদের প্রতি মানুষের আস্থা আছে। সুতরাং আস্থার প্রতিদান দিতে হবে।’ সিইসি বলেন, সমস্যা হয় কাউন্সিলরদের নিয়ে। তাদের মধ্যে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্ষেত্রবিশেষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে ভূমিকা রাখে।
নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রধান বিরোধী দলের প্রার্থী না থাকায় এর আগে তিনি এই নির্বাচনকে উত্তাপ ও উষ্ণতাবিহীন একটি শীতল নির্বাচন বলে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের যে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তাতে এই নির্বাচনকে আর নিরুত্তাপ বলার সুযোগ নেই। অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।
ঢাকা উত্তর সিটি মেয়রের শূন্য পদে ও ৯ ও ২১ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে উপনির্বাচন; এবং দুই সিটির সমপ্রসারিত ৩৬টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদ ও ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ভোট হবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি। এবার ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে ৫ জন এবং উত্তর ও দক্ষিণে কাউন্সিলর পদে ৩৭৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। ৯ ফেব্রুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।
আপিল করেছেন শাফিন
প্রার্থিতা ফিরে পেতে মনোয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন জাতীয় পার্টি-জাপার প্রার্থী শাফিন আহমেদ। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেন তিনি। ঋণখেলাপি হওয়ায় প্রার্থিতা বাতিল হয়েছিল শাফিনের।
