বাইসাইকেল। ক্রিং ক্রিং বেল বাজিয়ে তার ছুটে চলা। হোক সে শহরের সরু গলি বা গঞ্জের মাঠ-ঘাট, ইটের সলিং বা কর্দমাক্ত মেঠোপথ। প্রয়োজন পড়ে না পেট্রোল, ডিজেল বা বৈদ্যুতিক সংযোগের। দুই প্যাডেল ঘোরাইলেই যাত্রা। এই যাত্রা যেমন স্বাস্থ্য উপকারী তেমনি পরিবেশ উপযোগীও বটে।
শুরুটা ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে, ১৮৬৫ সালে। পিয়ের লেলমো নামে এক ফরাসি তরুণ প্রথমবারের মতো দুই চাকার একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন। নাম দেন ভেলোসিপেডে। তবে তখনো তাতে ব্রেক ও গিয়ার লাগানো হয়নি, শুধু দুটি চাকাসমেত একটি কাঠের ফ্রেম। সামনের চাকাটি ইয়া বড় আর পেছনের চাকা ছোট। পরবর্তী সময়ে এই ধারণাকে কাজে লাগিয়ে আসে আধুনিক বাইসাইকেল। যার দুটি চাকাই সমান, আছে গিয়ার, ব্রেক, চেইন, লোহার ফ্রেমসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ। এরপর শুরু হয় বাণিজ্যিক উত্পাদন। মজার ব্যাপার হলো, চিত্রশিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চির একজন শিষ্যের ১৫৩৪ সালে আঁকা ছবিতে পাওয়া যায় বাইসাইকেলের প্রাচীনতম একটি নকশা। তাই অনুমান করা হয় বাইসাইকেল মাত্র ২০০ বছর আগে দৃশ্যত হলেও এর ধারণা অনেক প্রাচীন।
সাইকেলের রকমফেরের ইয়ত্তা নেই। কোনোটি সমতলে, কোনোটি পাহাড়ে আবার কোনোটি বালুচরে চলার উপযোগী। এছাড়া সাইক্লিং ও বাচ্চাদের জন্য রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন রকমের সাইকেল। ভ্রমণপিয়াসীদের জন্য রয়েছে ক্রুইসার বা ফোল্ডিং মডেলের বাইসাইকেল। পাহাড়ে চড়তে হলে মাউন্টেন আর স্যাঁতসেঁতে ভেজা পথের জন্য ফ্যাট বাইসাইকেল। আবার স্বল্প দূরত্বের শৌখিন ভ্রমণের জন্য আছে হাইব্রিড বাইসাইকেল।
তীব্র যানজটে বাইসাইকেলের মতো উপকারী বন্ধু আর একটিও নেই। যানজটে গাড়িঘোড়ার ফাঁক দিয়ে বা পথচারীর পথ দিয়ে ভিড় ঠেলে ঠেলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছনো যায়। শুধু মানুষ নয়, ছোটখাটো মালামাল পরিবহনের জন্যেও বাইসাইকেলে রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
নিয়মিত সাইকেল চালালে পেশির শক্তি বেড়ে যায়, কার্ডিও ভাস্কুলার সিস্টেমের উন্নতি ঘটে। আবার গাঁটের ব্যথায় সাইক্লিং মহা ঔষধ। শরীরের বাড়তি মেদ, বিশেষ করে পেটের মেদ কমাতে এবং পেশির দৃঢ়তা থেকে শুরু করে শরীরের গঠন ঠিক রাখতেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে সাইক্লিং। কেবল শারীরিক নয়, মানসিক দিক থেকেও সুস্থ রাখে। নিয়ম মেনে রোজ সাইকেল চালালে বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও মানসিক চাপ থেকে সহজে মুক্তি পাওয়া যায়।
বাইসাইকেলে কালো ধোঁয়া নেই। তাই এটি ব্যবহারে বাতাসের কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় না, দূষিত হয় না পরিবেশ। পরিবেশবান্ধব এই দ্বিচক্রযান মূল্যের দিক থেকে সাশ্রয়ী আবার টেকসই। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যেই উপযোগী। স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় বাইসাইকেলকে সঙ্গী করা উচিত।
শাকিরুল আলম শাকিল
