অযত্ন অবহেলায় পতিত জমি, মাঠে-ঘাটে ও বসতবাড়ির আনাচেকানাচে বেড়ে ওঠে এই ঘাস। Gramineae (Poaceae) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি উদ্ভিদ, যার বৈজ্ঞানিক নাম Cynodon dactylon। দূর্বার পাতা সরু ও লম্বা। মাটির নিচে গুচ্ছ মূল থাকে। প্রচণ্ড রোদে দূর্বা সহজে মরে না। প্রতিকূল পরিবেশেও দূর্বাঘাস সহজে টিকে থাকতে পারে। ভারতীয় সংস্কৃতি ও পুরাণে দূর্বা হচ্ছে দীর্ঘায়ু ও কল্যাণের প্রতীক আর প্রাচীন আর্যসমাজে ধান ছিল ধন বা ঐশ্বর্যের প্রতীক। তাই সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন পূজাপার্বণাদি ছাড়াও বিশেষ করে বিয়ে, অন্নপ্রশাসন ও অন্যান্য শুভকাজে মঙ্গল কামনায় দূর্বা ও ধান মস্তকে দিয়ে ধন-ঐশ্বর্য ও দীর্ঘায়ু লাভে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।
আয়ুর্বেদীয় মতে দূর্বাঘাস মহৌষধ। শরীরের কোথাও কোনো অংশ কেটে গেলে ঐ স্থানে দূর্বাঘাস পিষে লাগালে সঙ্গে সঙ্গেই রক্তপড়া বন্ধ হয়ে যায়। দূর্বাঘাসের রয়েছে ঔষধিগুণ। আঘাতজনিত রক্তপাত, শ্বেতপ্রদরজনিত দুর্বলতা, অধিক ঋতুস্রাব, চুলপড়া, চর্মরোগ, দন্তরোগ ও আমাশয়ে দূর্বা খুবই উপকারী। দূর্বাঘাসে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, প্রোটিন, এনজাইম, শর্করা, আঁশ, ফ্লাভোনয়েডস এবং বেশ কিছু অর্গানিক অ্যাসিড। এছাড়াও টারপিনয়েড যৌগ অরুনডেইন ও লুপিনোন বিদ্যমান।
সুশান্ত কুমার রায়
