শাহজাহান খান, মাদারীপুর প্রতিনিধি
মাদারীপুর জেলার তিন উপজেলায় প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আড়িয়াল খাঁ, পালরদি ও কুমার নদে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন পরিস্থিতির আরো অবনতি হচ্ছে। ২৫টি এলাকায় ভাঙন দেখা দেওয়ায় নতুন করে ঘরবাড়ি, প্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি ও গাছপালা হুমকির মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসী ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, কালকিনি উপজেলার খাসেরহাট, কানুরগাঁও, দক্ষিণ রমজানপুর, মিয়ারহাট লঞ্চঘাট, হাজী করিমখানের হাট ও আলীপুর মোল্লারহাট এলাকায় আড়িয়াল খাঁ ও পালরদি নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে ঘরবাড়িসহ ফসলি জমি, গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহেরচর কাতলা, জাফরাবাদ, কালিকাপুর, কোটবাড়ী শ্রীনদী, গোসাইদিয়া, কাজিরটেক, নীলচর খেয়াঘাট, চর ঘুন্সী, চর কালিকাপুরসহ প্রায় ১৭টি এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই এলাকায় গত কয়েক দিনে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়িসহ সরদারকান্দি নুরুদ্দিন দাখিল মাদ্রাসাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া রাজৈর উপজেলার আউলিয়াকান্দি এলাকায় কুমার নদে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
কালকিনি উপজেলার কানুরগাঁও এলাকার রুস্তম আলী জানান, জরুরি ভিত্তিতে নদী ভাঙন রোধে কাজ করা না হলে এলাকাবাসী দারুণ ক্ষতির সম্মুখীন হবে। পাঁচখোলা গ্রামের আ. রহমান জানান, সরদার কান্দি নুরুদ্দিন দাখিল মাদ্রাসাটি ইতিমধ্যেই আড়িয়াল খাঁ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পাশাপাশি এই এলাকার অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে বহু ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ব্যাপক সাহায্য দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে এলাকাবাসী।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুদ্দিন গিয়াস জানান, সদর উপজেলা ১৪-১৫টি এলাকায় কম-বেশি আড়িয়াল খাঁ নদে ভাঙন শুরু হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ইতিমধ্যেই সরকারি সাহায্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ও অব্যাহত রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম সাহা জানান, জেলার কালকিনি, সদর ও রাজৈর উপজেলার প্রায় ২৫ এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। তিন উপজেলায় ভাঙনকবলিত এলাকার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার। ভাঙন প্রতিরোধে ইতিমধ্যেই বালিভর্তি জিও ব্যাগ নদীতে ফেলার কাজ (ডাম্পিং) শুরু হয়েছে।
