ফুটবলার পেলে, ম্যারাডোনা বা মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, কিংবা স্প্রিন্টার উসাইন বোল্ট তো বটেই, সত্তরের দশকে মন্ট্রিল অলিম্পিকে স্বর্ণজয়ী জিমন্যাস্ট নাদিয়া কোমানেচিরা যখন তারকা খ্যাতি পান তখন কৌতূহলী মানুষের ধারণা হয় তাদের বুঝি সংসারজীবন নেই, মাঠেই থাকেন সারা দিন! কিন্তু খ্যাতির শিখরে পৌঁছলেও অন্য আট-দশ জনের মতো তাদের সবারই আছে জীবন। যে কারণে ইদানীং ক্রীড়াবিদরা প্রায়ই বলে থাকেন, মানসিক অবসাদ দূর করতে কিংবা পরিবারকে সময় দিতে ‘আপাতত’ মাঠ থেকে বিশ্রাম নিচ্ছি। স্রেফ সংসারের মোহে তো বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের অনেক খেলোয়াড় অবসরই নিয়ে ফেলেছেন। বাংলাদেশেই কিন্তু অসংখ্য নজির আছে, বিশেষ করে মহিলা খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে। স্বামী-স্ত্রী দুই জনই খেলার মাঠের মানুষ হলে ভিন্ন কথা; একই জগতের মানুষ হওয়ায় এক জন আরেক জনকে বুঝতে পারেন সহজে। সমস্যা, সুযোগ-সুবিধা নখদর্পণে থাকে তাদের। ফলে সংসারজীবনও সহজ হয়ে যায়। কিন্তু পরিবারে সন্তানের আগমন ঘটলে তাদের লালন-পালন নিয়ে সংকট তৈরি হলে সেটিও সহজে সমাধান করে নিতে পারেন নিজেদের মধ্যে সলাপরামর্শ করে। শাটলার কামরুন নাহার ডানা-আবুল হাশেম, এনায়েতউল্লাহ খান-এলিনা সুলতানা, শাপলা আক্তার-ওয়াহিদুজ্জামান রাজু, ক্রিকেটার মোসাদ্দেক-সানজিদা ইসলাম, ফুটবলার মাহবুবুর রহমান সুফিল-ক্রিকেটার জিন্নাত আসিয়া অর্থি, তিরন্দাজ সাজ্জাদ হোসেন-ফুটবলার সুইনু প্রু মারমা, টিটির মাহবুববিল্লাহ-টুম্পা, মোহাম্মদ আলী-সোনম সুলতানা সোমা, হকি খেলোয়াড় হাসানউল্লাহ খান রানা-হ্যান্ডবলের রাশেদা হাসান, হকির নান্নু-অ্যাথলেট পাপিয়া খানম, এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী দুই সাঁতারু শাহজাহান আলী রনি-মাহফুজা খাতুন শিলা ও আসিফ রেজা-সোনিয়া আক্তার টুম্পা, কারাতেকা হোসেন খান-হুমায়রা আক্তারদের মতো অন্তত জনাপঞ্চাশেক ক্রীড়াবিদ জুটি আছেন বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে, যারা সোনালি সাফল্যের সন্ধানে দাবড়ে বেড়ান ক্রীড়াঙ্গন, আবার ঘরও সামলাতে পারঙ্গম দুজনে মিলে। লিখেছেন— গাজী মো. শফিকুল হক
