এদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কিংবা স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন হলেও স্বজনপ্রীতি কমেনি। যার ফলে ক্রমেই বাড়ছে স্বাস্থ্য বৈষম্য। স্থানীয় হাসপাতাল বা ক্লিনিকে খোঁজ নিলেই এটির সত্যতা মিলবে। বড় বড় হাসপাতাল বা ক্লিনিকে নামিদামি মানুষরাই সেবা পান। এমনকি সরকারি হাসপাতালগুলোতেও নামিদামি মানুষেরাই ভালো সেবা পেয়ে থাকেন। যদিও তারা সরকারি ফ্রি চিকিত্সা তেমন নেন না। তবু যদি কোনো কারণে অ্যাডমিট হন, তাদের দাপটে পুরো হাসপাতাল কাঁপে। যতটুকু সেবাযত্ন নামিদামি মানুষ পান, তার তিন ভাগের এক ভাগ সর্বসাধারণে পেলে বাংলাদেশের চেহারা পালটে যেত। স্বাস্থ্যখাত আরো স্বাস্থ্যবান হতো।
নামিদামি মানুষ তিন মাস ছয় মাস আগেই বেড/ কেবিন বুকিং দিয়ে রাখেন। তাঁরা সামান্য সমস্যার জন্য অগ্রিম বেড বুকিং দেন। যার কারণে জনসাধারণ বঞ্চিত হয়। প্রয়োজনের মুহূর্তে বেড না পাওয়ায় মূমুর্ষু একজন রোগী যথাযথ চিকিত্সা পান না। যতটুকু পান ইমারজেন্সি ওয়ার্ড থেকে পান। কিন্তু ইমারজেন্সিতে তো আর নিবিড়ভাবে সেবা পাওয়া যায় না। এখানে তাত্ক্ষণিক চিকিত্সাই দেওয়া হয়। যার ফলে অনেক রোগী সঠিক চিকিত্সার অভাবে মারা যায়।
আমি মনে করি স্বাস্থ্য খাতে এটি একটি বড় সমস্যা। অচিরেই এ সমস্যার সমাধান করা উচিত। সব হাসপাতাল, ক্লিনিক সবার জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে। এখানে সেবা হবে ধনী, গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য সমান। না থাকবে রেফারেন্স, না থাকবে টাকার জোর। বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়বে। স্বাস্থ্যখাত এগিয়ে যাবে বহুদূর।
মেহেরুন ইসলাম
সিনিয়র স্টাফ নার্স,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
