জিম্বাবুয়ে ২০ ওভারে ১৯৩। বাংলাদেশ ১৯.২ ওভারে ১৯৪
জান-ই-আলম
সৌম্য সরকারের সামর্থ্য সবারই জানা। ধারাবাহিক না হতে পারাই তার নামের পেছনে সবচেয় বড় অপবাদ। জিম্বাবুয়ে সফরে টি-২০ সিরিজে দুই হাফ সেঞ্চুরিতে নিজেকে ফিরে পেলেন সৌম্য। ম্যাচ সেরা ও সিরিজ সেরার পুরস্কারও পেলেন তিনি।
ঘরোয়া ক্রিকেটে মারকাটারি ব্যাটিংয়ে নজর কেড়েছিলেন শামীম পাটোয়ারি। জিম্বাবুয়ে গিয়ে অভিষেকেই নিজের ব্যাটের জোর দেখিয়েছেন যুব বিশ্বকাপজয়ী এ ক্রিকেটার। গতকাল বাংলাদেশের হয়ে তুলির শেষ আঁচড়টা দিয়েছেন এ তরুণই। হারারেতে শামীমের ১৫ বলে ৬টি চারে অপরাজিত ৩১ রানের ইনিংসেই জিম্বাবুয়ের ছুড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জটা উতরে গেছে বাংলাদেশ ।
গতকাল সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-২০ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে টাইগাররা। সিরিজটা ২-১ এ জিতে নিল বাংলাদেশ। একাধিক ম্যাচের টি-২০ সিরিজে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ সিরিজ জয়, দেশের বাইরে তৃতীয়। আট বছর পর জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে তিন ফরম্যাটেই সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।
টস জিতে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৯৩ রানের বিশাল স্কোর গড়ে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-২০ তে এটিই তাদের দলগত সর্বোচ্চ রান। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল ৬ উইকেটে ১৮৭ রান, ২০১৬ সালে খুলনায়। জবাবে ১৯.২ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৪ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ।
রান তাড়া করতে নেমে সৌম্যর ব্যাটেই এগিয়েছে বাংলাদেশের জয়ের মিশন। সাকিবের সঙ্গে ৫০, মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ৬৩ রানের জুটি গড়েন এ বাঁহাতি ওপেনার। ক্যারিয়ারের পঞ্চম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি ৪০ বলে। ক্যারিয়ার সেরা ৪৯ বলে ৬৮ রানের (৯ চার, ১ ছয়) ইনিংস খেলে ফিরেন দলীয় ১৩৩ রানে। মাহমুদউল্লাহ ১৯তম ওভারে ফিরলেও ম্যাচ শেষ করে আসেন শামীম পাটোয়ারি। এ তরুণের ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়েই রান-বলের দূরত্ব ঘুচিয়ে আনে বাংলাদেশ। সাকিব ২৫, আফিফ ১৪, মাহমুদউল্লাহ ৩৪, সোহান অপরাজিত ১ রান করেন। জিম্বাবুয়ের মুজারাবানি, লুক জঙ্গিয়ে ২টি করে উইকেট নেন।
এর আগে স্বাগতিকদের রানের লাগাম টেনে ধরার চেষ্টায় ব্যর্থ হন সাকিব-তাসকিনরা। নাসুম, তাসকিন, সাইফউদ্দিন ৯ ওভারে দিয়েছেন ১১৫ রান। সাকিব, শরীফুল, সৌম্যর ১১ ওভারে এসেছে ৭০ রান। ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ ওভারেই ৬৩ রান আসে, ৯.৩ ওভারে ১০০ রান পূর্ণ করে স্বাগতিকরা। ২২ বলে ৬টি ছক্কায় ৪৮ রান করেন চাকাভা। মাধেভেরে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে সাকিবের শিকার হন। তিনি ৩৬ বলে ৫৪ রান করেন। মারুমানি ২৭, মায়ার্স ২১, রায়ান বার্ল ১৫ বলে অপরাজিত ৩১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। সৌম্য ১৯ রানে ২টি, সাকিব-শরীফুল-সাইফউদ্দিন ১টি করে উইকেট পান।
