মো. শফি আলম, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
মানিকগঞ্জের ঘিওরের বানিয়াজুরী এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ড্রাগন চাষ করে সফল হয়েছেন চাষি পলাশ সরকার। দুই বছর আগে ৬০ শতাংশ জমিতে তিনি ড্রাগন চাষ শুরু করেন। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। এরই মধ্যে এই ফল বিক্রি করে তার আয় হয়েছে ৪ লাখ টাকার ওপরে। পলাশ তার স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি এলাকার অনেকের কাছে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছেন। এ জেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ড্রাগন চাষ করে বেকারদের স্বাবলম্বী হওয়ার অপার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানালেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
বাড়ির সঙ্গেই এ বাগানে বাণিজ্যিকভাবে ২০১৯ সালের ১৩ জুন ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন তিনি। ইউটিউবে দেখে ড্রাগন ফল চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন পলাশ। তারপর তিনি খোঁজ নিয়ে চলে যান চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে। সেখানে স্থানীয় ‘রুপ মিয়ার’ বাগানে চাষ পদ্ধতি দেখেন এবং সেখান থেকে চারা কিনে আনেন। এরপর জমি তৈরি করে নিজ বাগানে শুরু করেন ড্রাগন চাষ। ১০ মাসেই ফুল আসে বাগানে।
সরেজমিন ড্রাগন ফল বাগানে কথা হয় পলাশ সরকারের সঙ্গে। তিনি জানান, তার ড্রাগন ফল চাষ করার শুরুর কথা, বর্তমান অবস্থা এবং তার স্বপ্নের কথা। তিনি জানান, অত্র এলাকায় তিনিই প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এ বাগান করেছেন। বাজারে ভালো দাম ও চাহিদা থাকায় দিন দিন বাড়ছে এ ফলের কদর। পলাশ সরকার আরো জনান, অনেকেই আসছেন পরামর্শ নিতে। এপ্রিলে ফুল আসে, এরপর জুনের প্রথম সপ্তাহে ফল। ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা সাত মাস ফল পাওয়া যায়।
ঘিওর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (বাগ-বানিয়াজুরী ব্লক) মুক্তা আক্তার বলেন, ঘিওরে প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ড্রাগনের বাগান করেছেন পলাশ এবং তিনি সফল চাষি। তিনি নিয়মিত বাগানের খোঁজখবর এবং পরামর্শ প্রদান করে আসছেন। তিনি আরো জানান, পলাশের বাগানের একটি ড্রাগন ফলের ওজন ৩০০ গ্রাম থেকে প্রায় ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।
ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সক ডা. সুজিত কুমার সরকার বলেন, অধিক পুষ্টি গুণসম্পন্ন এ ফল চোখকে সুস্থ রাখে, শরীরের চর্বি কমায়, রক্তের কোলেস্টরেল কমায়, উচ্চ রক্তচাপ কমানোসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ ফল চাষে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
