কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক আলী আশরাফের অবস্থার খুব সামান্য উন্নতি দেখছেন তার চিকিত্সকরা। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা আলী আশরাফকে ভারত থেকে আনা উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন দেওয়া শুরু হয়েছে শনিবার থেকে। এত দিন অ্যান্টিবায়োটিকে কাজ না হলেও ভারত থেকে আনা অ্যান্টিবায়োটিকে কিছুটা কাজ হচ্ছে। তার বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলে খুব সামান্য উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
অধ্যাপক আলী আশরাফের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে তার ব্যক্তিগত সহকারী মো. জসিম উদ্দিন চিকিত্সকদের উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে এই আপডেট জানান। তিনি জানান, শনিবার রাতে আলী আশরাফের নাক দিয়ে রক্ত ঝরেছে। পরে সেটি বন্ধ হয়। তবে বুধবার ঈদের দিন বিকাল ৩টায় লাইফ সাপোর্টে যাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো সাড়া দিচ্ছেন না, চোখও খুলছেন না। অবশ্য তার করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে।
স্কয়ার হাসপাতালে আলী আশরাফের চিকিত্সায় দায়িত্বরত চিকিত্সকদের পরামর্শে ভারত থেকে ২১টি উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন আনা হয়েছে শুক্রবার রাতে। শনিবার থেকে এই ইনজেকশন প্রয়োগ শুরু হয়েছে। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, ফুসফুসের সংক্রমণের উল্লেখ করার মতো উন্নতি না হলেও অবনতি হয়নি। আজকালের মধ্যে তার অবস্থা সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
পিত্তথলিতে জমা পাথর অপসারণের জন্য ৭৩ বছর বয়সি আলী আশরাফকে গত ১০ জুলাই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়লে কেবিনে থেকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সংক্রমণ কমাতে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হলেও উন্নতি হয়নি। সর্বশেষ নিউমোনিয়া ধরা পড়ে, গত বুধবার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিত্সকরা তাকে লাইফ সাপোর্টে নেন।
সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলী আশরাফ ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন। তিনি এ নিয়ে পঞ্চমবার কুমিল্লা থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০০ সালে তিনি সংসদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।
