বরিশালে সড়ক ও বসতঘরে ঢুকছে জোয়ারের পানি

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ২২:৩৩

বন্যা, ঘূর্ণিঝড় অথবা প্রবল বৃষ্টিপাত নয়, পূর্ণিমা এলেই জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত থাকে বরিশাল নগরী। এতে করে বর্ষা মৌসুম জুড়েই বরিশাল নগরবাসীর জীবনযাপন করতে হয় জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে। এছাড়া পূর্ণিমার জো চলাকালে যদি বৃষ্টিপাত কিংবা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থাকে তাহলে নগরীর বেশ কিছু এলাকার বাসিন্দাকে দুর্ভোগ পোহাতে হয় মাসব্যাপী। গত কয়েক দিন ধরে পূর্ণিমার জো চলাকালে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় দুবার জোয়ারের পানিতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কের পার্শ্ববর্তী এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এতে করে নগরবাসীর জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তির দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি সড়কগুলো দীর্ঘক্ষণ পানিতে নিমজ্জিত থাকায় তা যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম সরকার ইত্তেফাককে জানান, বন্যার কোনো পূর্বাভাস নেই তাদের কাছে। তবে পূর্ণিমার জোর কারণে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পানি শনিবার ও রবিবার বিপত্সীমা অতিক্রম করেছে। বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মো. আনিছুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড়ের কোনো পূর্বাভাস নেই এবং গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে মাত্র এক মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বরিশাল সিটি করপোরেশনের অভ্যন্তরে এক সময় প্রবহমান ছিল অর্ধশত খাল। এসব খাল দিয়ে চলত যাত্রীবাহী     গয়না ও বজরা (পুরনো দিনের বিশেষ নৌযান), পণ্যবাহী নৌকা-ট্রলার। কীর্তনখোলা নদীর জোয়ার-ভাটা এবং নির্মল পরিবেশের কারণে সুখ্যাতি ছিল বরিশালের। খালের নামেও বরিশালের অনেক এলাকার নামকরণ হয়েছে। কিন্তু দখলদারীদের হাতে দখল হতে হতে এখন খাল নেই, রয়ে গেছে শুধু নাম। ভাটিখানা খাল, কলেজ রো’র খাল, ভাটার খাল, জেল খাল, সাগরদী খাল, বটতলা খাল, নাপিতখালি খাল, টিয়াখালি খাল, নথুল্লাবাদ খালসহ নগরীর এসব খাল এখন ইতিহাস। এসব খাল দখল হয়ে যাওয়ায় ড্রেন উপচে সড়কে পানি উঠে যাচ্ছে। এতে করে জোয়ার-ভাটায় বরিশাল নগরীর বিভিন্ন সড়কে পানি ওঠায় তাতে ক্ষতি হচ্ছে। কেননা সড়কে ব্যবহূত বিটুমিন দীর্ঘক্ষণ পানিতে নিমজ্জিত থাকায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অর্ধশত এসব খালের অধিকাংশ স্থানেই রয়েছে দখলদারদের দৌরাত্ম্য। বরিশাল নগরীর রূপাতলী বটতলা মোড় মসজিদ সংলগ্ন চক্রবর্তীর খাল ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরুর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সাগরদী খালের দুই পাশে এমনভাবে দখল করা হয়েছে যে, বোঝার উপায় নেই এটি খাল ছিল। লাকুটিয়া খালসহ কাজীপাড়া, সাগরদী, টিয়াখালী, জিয়া সড়ক, কাশীপুর, নাপিতের, চাঁদমারি, পলাশপুর খালও ফের ভরাট ও দখল হয়ে যাচ্ছে।