ঘাট স্থানান্তরসহ তদন্ত কমিটির তিন সুপারিশ

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ২২:৩৯

ঘাট স্থানান্তরসহ তিন সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পদ্মা সেতুর ১৭ নম্বর পিলারে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি। বেঁধে দেওয়া তিন দিনের মধ্যে কমিটি রবিবার সংস্থার চেয়ারম্যানের কাছে রিপোর্ট জমা দেয়। প্রতিবেদনে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে বাংলাবাজার ঘাটটি মাঝিরকান্দি স্থানান্তরসহ তিনটি সুপারিশ করা হয়। বাকি দুই সুপারিশ হচ্ছে, পদ্মা সেতুর পিলারের গায়ে রাবারের ফোল্ডার দেওয়া ও কম গতির ফেরি শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুট থেকে সরিয়ে শক্তিশালী ইঞ্জিনবিশিষ্ট ফেরি দেওয়া। ঘটনার জন্য দুই চালককে দায়ী করা হয়েছে।

এদিকে, পদ্মা সেতুর ১৭ নম্বর পিলারে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় রো রো ফেরি শাহজালালের আরেক চালক মো. সাইফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। তিনি ঐ ফেরির হুইল সুকানি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রবিবার দুপুরে তাকে বরখাস্তের আদেশ জারি করে সংস্থাটি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তাকেসহ ফেরির দুই চালককেই (মাস্টার ও সুকানি) ঘটনার জন্য দায়ী করার পরিপ্রেক্ষিতে এ ব্যবস্থা নিল বিআইডব্লিউটিসি। এর আগে ঘটনার দিন গত শুক্রবার ফেরির আরেক চালক (মাস্টার) আব্দুর রহমান খানকে বরখাস্ত করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেয়েছি। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আরো এক জন চালককে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া দুই চালকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে ফেরি সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

গত শুক্রবার সকালে পদ্মা সেতুর ১৭ নম্বর পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে রো রো ফেরি শাহ জালালের।                এ সময় ফেরিতে থাকা যাত্রীরা ছিটকে একে অন্যের ওপর পড়ে আহত হন। কমপক্ষে ২০ জন যাত্রী মারাত্মক আহত হন। ঐ দিনই বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামানকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঐ ঘটনায় পদ্মা সেতুর ১৭ নম্বর পিলার ক্যাপের সাইড ও উপরিভাগের সামান্য অংশে সিমেন্টের পলেস্তারা খসে পড়েছে। আর ফেরির ২০ ফুট দীর্ঘ ও ৪ ফুট প্রশস্ত হাল প্লেট (সামনের অংশ) ভেঙে ভেতরের দিকে দেবে গেছে। একটি ডিপ ফ্রিজ পড়ে ভেঙে যায়। দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল পদ্মা সেতুতে পানির স্রোতের বেগ ছিল সাত কিলোমিটার। ফেরির মাস্টার আব্দুর রহমান খান ও সুকানি মো. সাইফুল ইসলাম বাংলাবাজার থেকে মাগুরখন্ড হয়ে বের হয়ে পদ্মা নদীতে প্রবেশ করার পর নদীর স্রোত ও বাতাসের গতিবেগ লক্ষ্য না করেই স্বাভাবিক গতিতেই সেতুর কাছাকাছি ১৬ ও ১৭ নম্বর পিলারের মধ্য দিয়ে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে ফেরিটি স্রোতের কারণে আড়াআড়ি হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিলারের সঙ্গে ধাক্কা খায়। ফেরির মাস্টার ও সুকানি মাগুরখন্ড হয়ে বের হয়ে অন্যান্য জলযানের মতো কিছুটা ওপরে উঠে পাড়ি দিয়ে ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের মধ্য দিয়ে বা কাছ দিয়ে অতিক্রম করলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ফেরির মাস্টার, সুকানিসহ কয়েকজন স্টিয়ারিং হঠাত্ নষ্ট হওয়ার কারণে পিলারে ধাক্কা লাগার যে জবানবন্দি দিয়েছে তা সঠিক নয়। তদন্ত কর্মকর্তারা সার্কিট ব্রেকার ভালো অবস্থায় পেয়েছেন।