ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পূর্ববিরোধের জেরে এক ইউপি সদস্য আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের নয়াদিল গ্রামের সহিদুল ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তিনি মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।
হামলায় নারীসহ সাত জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন হিরন মিয়া (৩৫), সবুজ মিয়া (২৮), সুলমান (৩০), শানু মিয়া (৫০), সরুফা বেগম (৪৫), সাফিয়া বেগম (৬৫) ও আল আমিন (৩৫)। আহতদের মধ্যে দুই নারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিত্সা নিয়েছেন। এ ঘটনায় মো. সহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে শনিবার রাতেই আখাউড়া থানায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ স্বপন মিয়াকে আটক করেছে।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সহিদুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে একই গ্রামের স্বপন, বাবুল, ওয়াহাব, মতিন মিয়াসহ বিবাদীদের বিরোধ চলে আসছে। পূর্ববিরোধের জেরে শনিবার সন্ধ্যায় ওয়াহাব ও মতিনের নেতৃত্বে তাদের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সহিদুল ইসলামের বাড়িতে অতর্কিত হামলা করে নারী-পুরুষদের বেদম মারধর করে। হামলায় দুই নারীসহ সাত জন আহত হয়। হামলাকারীরা ঘরের আসবাব ভাঙচুর করে। এছাড়া সহিদুল ইসলামের ছেলে হিরন মিয়ার দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে আখাউড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপন মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নয়াদিল গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদ মিয়া বলেন, সহিদুল ইসলামের সঙ্গে এলাকার স্বপন মিয়া ও মতিন মিয়াসহ কিছু লোকজনের বিরোধ রয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় স্বপন মিয়া ও মতিন মিয়ার লোকজন সহিদুল ইসলামের বাড়িতে হামলা করে সবাইকে মারাত্মক মারধর করেছে। আমি থামাতে গেলে আমাকেও তারা থাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে মারতে আসে।
এ ব্যাপারে সহিদুল ইসলাম বলেন, হামলা মারধর করে আমার ছেলের দোকানের টাকা পয়সা, ৯টি মোবাইল ফোন লুটে নিয়েছে। এছাড়া ঘরের মূল্যবান আসবাব ভাঙচুর করে আমার লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এক জনকে আটক করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
