রয়টার্স
ইসরায়েলের দুটি এয়ারলাইনস রাজধানী তেল আবিব থেকে মরক্কোর মাররাকেশে সরাসরি বিরতিহীন বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করেছে। গত বছর মরক্কো ও ইসরায়েলের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নের পথ ধরেই চালু হলো এই ফ্লাইট।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত বছর ডিসেম্বরে এক শান্তিচুক্তির মধ্য দিয়ে ইসরায়েল ও মরক্কোর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কেও অগ্রগতি হয়। ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও সুদানের পর ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্মত হওয়া চতুর্থ আরব দেশ ছিল মরক্কো। রবিবার ইসরায়েলের ইসরাইল এয়ারলাইনসের ফ্লাইট-৬১ স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৮টায় মরক্কোয় রওনা দেয়। সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার এই যাত্রায় উড়োজাহাজে বিমানবালাদের পরনে ছিল মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী পোশাক এবং তারা যাত্রীদেরকে মরক্কোর খাবারও পরিবেশন করেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের আরেক এয়ারলাইনস এল-আল ফ্লাইট ৫৫৩ মরক্কো যাত্রা করে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায়। এই এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ সপ্তাহে মরক্কোয় ৫টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। আর ইসরাইল এয়ারলাইনস মাররাকেশে ফ্লাইট পরিচালনা করবে সপ্তাহে দুটি। ইসরায়েলের পর্যটনমন্ত্রী বলেছেন, ‘এই রুটে বিমান চলাচল দুই দেশের মধ্যে পর্যটন, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হবে।’ উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোয় জনসংখ্যার প্রায় ৯৯ শতাংশ মুসলিম হলেও ১৯৪০-এর দশকে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত দেশটিতে ইহুদি সম্প্রদায়ের বাস ছিল। ১৪৯২ সালে ক্যাথলিক রাজারা স্পেন থেকে ইহুদিদের তাড়িয়ে দিলে অনেকে মরক্কোয় আশ্রয় নিয়েছিলেন? ১৯৪০-এর দশকের শেষ দিকে মরক্কোয় প্রায় আড়াই লাখ ইহুদির বাস ছিল, যা ছিল সেই সময়ে দেশটির জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ; ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্মের পর অনেক ইহুদি মরক্কো থেকে ইসরায়েলে চলে যান।
