মতিউর রহমান, দিনাজপুর অফিস
দিনাজপুরে ১৩ উপজেলায় বৃষ্টির অভাবে কৃষকরা আমন ধানের চারা রোপণ করতে পারছেন না। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় মাঠে পানি নেই। অনেক জমি পানির অভাবে ফেটে যাচ্ছে। শ্রাবণ মাস প্রায় শেষ হতে চললেও পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে কৃষকরা আমন ধানের চারা রোপণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। মাঝে মাঝে যে বৃষ্টি হচ্ছে চাহিদার তুলনায় তা নগণ্য।
দিনাজপুর সদর উপজেলার খোদমাধবপুর গ্রামের কৃষক আমিনুল হক বলেন, শ্রাবণ মাস আসলে পানিতে জমি থইথই করে কিন্তু এবার পানির অভাবে জমি ফেটে গেলেও এখন পর্যন্ত বৃষ্টির দেখা পাইনি। এভাবে যদি চলে তাহলে তো জমি পড়ে থাকবে, আবাদ করা যাবে না। বিছন যে গাড়ব সেই পানিও দিতে হচ্ছে শ্যালো মেশিন দিয়ে। বৃষ্টির অভাবে আমন আবাদ নিয়ে শঙ্কা শুধু আমিনুলের নয়, দিনাজপুর সদর উপজেলাসহ বিরল, কাহারোল ও বীরগঞ্জসহ ১৩ উপজেলার কৃষকদের। আমিনুল হক জানান, তার চার বিঘা জমিতে আমন আবাদ হয়। এ জন্য প্রায় ২৫ শতক জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। চারাও বড় হয়েছে। পানির অভাবে রোপণ করতে পারছেন না। এ বছরই শুধু নয়, গত কয়েক বছর ধরেই আবহাওয়া এমন বিড়ম্বনায় ফেলছে। শ্যালো মেশিনে সেচ দিয়ে চারা রোপণ করলে খরচ অনেক বেড়ে যায়। বোরোর মতো আমনের ফলনও হয় না। আবার সে তুলনায় ধানের দামও পাওয়া যায় না।
দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শ্রাবণ মাস প্রায় শেষের দিকে কিন্তু জমিতে পানি নেই। প্রচণ্ড রোদে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। আর যারা আগাম চাষ দিয়ে রেখেছেন, ঐ সব জমিতে কাদার পরিবর্তে ধুলো উড়ছে। ভরা বর্ষা মৌসুম চললেও বৃষ্টির অভাবে প্রচণ্ড রোদে পুড়ছে আবাদি জমি। বিরল উপজেলার রবিপুর গ্রামের কৃষক মতিয়ার রহমান বলেন, আমন আবাদের জন্য জমিতে চাষ দিয়েছি। কিন্তু পানির অভাবে আমন রোপণ করতে পারছি না। কোথাও এক ফোটা পানি নেই। এ অবস্থায় কীভাবে আমন রোপণ করব দুশ্চিন্তায় আছি।
বিরল উপজেলার ১ নম্বর আজিমপুর ইউনিয়নের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আফজাল হোসেন জানান, জমিতে পানি না থাকায় একদিকে যেমন আমন আবাদে বিলম্ব হচ্ছে অন্যদিকে উপকারও হচ্ছে। জমিতে পানি না থাকায় কৃষকদের আগাম চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে জমির আগাছা দমন হবে এবং বৃষ্টি হলে চাষকৃত জমি উর্বর হবে। এতে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে জানান তিনি। দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রদীপ কুমার গুহ জানান, দিনাজপুরে চলতি আমন মৌসুমে ২ লাখ ৫৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমন রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য ইতিমধ্যেই ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। তীব্র খরার কারণে জমিতে পানি না থাকার কথা নিশ্চিত করে তিনি জানান, জুলাই থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত আমন রোপণের সময়। এখনই আমন রোপণের উপযুক্ত সময় চলছে। তবে এ অঞ্চলের কৃষকরা আগস্ট মাসেই আমন চারা রোপণ করে থাকেন। তিনি জানান, আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বৃষ্টিপাত না হলে কৃষকদের বিকল্প উপায়ে সেচ দিয়ে জমিতে আমন রোপণের পরামর্শ দেওয়া হবে।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম জানান, কৃষকদের সেচযন্ত্র ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদি অল্প সময়ের মধ্যে বৃষ্টির দেখা না মেলে তাহলে দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় বরেন্দ্র অঞ্চলে সম্পূরক সেচ শুরু করা হবে। ডিপ টিউবয়েলগুলো চালু করা হবে।
