পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা
পাইকগাছার উপকূলীয় অঞ্চলে কেওড়ার ভালো ফলন হয়েছে। ফলটি মূলত সুন্দরবনের বুনো ফল নামে পরিচিত। বর্তমানে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা মাছের ঘের ও চরভরাটি জমিতে ব্যাপক হারে কেওড়া গাছ লাগাচ্ছেন বলে জানান পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম এ আ. রাজ্জাক।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, আমরা এখন বিভিন্ন জেলা শহরে এ বুনো ফল পাঠাচ্ছি। দামও ভালো পাচ্ছি। পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, সুন্দরবন সংলগ্ন পাইকগাছা উপজেলার থানার সামনেসহ শিবসা, ভদ্রা, মিনহাজ, কড়ুলিয়া নদী ও কপোতাক্ষ নদের চরভরাটি জমিতে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে গত কয়েক বছরের ব্যবধানে প্রচুর পরিমাণে কেওড়া উড়া গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্লইসগেটের কাছে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বড় বড় কেওড়া গাছ রয়েছে। কেওড়া উড়া বর্ধনশীল হওয়ায় গাছে দ্রুত ফল ধরে। ফাগুনে ফুল ফোটে, চৈত্র-বৈশাখে ফল ধরে। আর আষাঢ়-শ্রাবণ ও ভাদ্র-আশ্বিন মাস পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়।
বন কর্মকর্তা প্রেমান্দ রায় বলেন, কেওড়া চাষ অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় ছোট-বড় চারা বিতরণ করার চিন্তা করছি। এ গাছ দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় তিন-চার বছরের মধ্যে ফল ধরে এবং প্রথম বারই ২০ কেজি থেকে এক মণ পর্যন্ত ফল হয়। জোয়ার-ভাটা হয় এমন চরভরাটি জমিতে যদি বাণিজ্যিকভাবে কেওড়া চাষ করা হয় তাহলে একদিকে বাঁধ ও পরিবেশ এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের পাশাপাশি এর কাঠ জ্বালানি ও ফল বাজারে বিক্রি করে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব।
বাণিজ্যিকভাবে কেওড়া চাষে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার অর্থনীতির জন্য অপার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, কেওড়া উপকূলীয় অঞ্চলের অতিপরিচিত একটি বুনো ফল কেওড়া উড়া। যেহেতু লোনা পানি অধ্যুষিত এলাকায় মাছের ঘের রয়েছে সেহেতু ঘেরের চারপাশে কেওড়া উড়া গাছ লাগালে মাছের সঙ্গে লাভবান হবে সবাই। তাছাড়া কৃষি বিভাগ থেকে ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে কেওড়া উড়া বাইন গোল গাছ লাগানোর জন্য।
