লাইব্রেরি একটি দেশ-জাতির জ্ঞানভান্ডারস্বরূপ। মানবসভ্যতার ক্রমবিকাশে লাইব্রেরির ভূমিকা অপরিসীম। জ্ঞানবিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে লাইব্রেরির জনপ্রিয়তাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত থাকে হাজার হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির জ্ঞান। শিক্ষান্বেষী মানুষের কাছে লাইব্রেরি তাই এক জ্ঞানতীর্থ, যেখানে মুক্তির সন্ধান পাওয়া যায়, জ্ঞানের সন্ধান পাওয়া যায়, বিকশিত হয় মানবতা। পাওয়া যায় জীবনের আলোকিত পথ। যে দেশ-জাতির যত বেশি লাইব্রেরি রয়েছে, সেই দেশ-জাতি তত বেশি এগিয়ে। জ্ঞানের ভান্ডারস্বরূপ লাইব্রেরিতে মানুষ জ্ঞান অর্জনের অবাধ ভূমিতে বিচরণ করে বই পড়ার মাধ্যমে। লাইব্রেরি তাই যেকোনো দেশ-জাতির জন্য অপরিহার্য।
জ্ঞান আহরণের জন্য যেমন লাইব্রেরির সংখ্যা যথেষ্ট হওয়া প্রয়োজন, ঠিক তেমনি লাইব্রেরিও বই পড়ার উপযোগী হওয়া চাই। আমাদের দেশের লাইব্রেরিগুলোতে উন্নত দেশের লাইব্রেরির মতো পড়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই। লাইব্রেরিগুলোতে অনেক সময় হইচই, বিশৃঙ্খলা, রাজনৈতিক অস্থিরতার শিকার হতে হয়। পাওয়া যায় না প্রয়োজনীয় বসার জায়গা, খুঁজে পাওয়া যায় না কাঙ্ক্ষিত বইটি। বিশ্ববিদ্যাল্যগুলোর লাইব্রেরিতে সিট পাওয়ার জন্য সিরিয়ালে দাঁড়াতে হয় সকাল থেকে। আবার লাইব্রেরিতে বই পড়তে গেলে অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অমার্জিত, অশোভন আচরণ অনেক সময় পড়ার উত্সাহ হারিয়ে ফেলার কারণ হয়। এ অবস্থায় পাঠক অনেক ক্ষেত্রেই লাইব্রেরিবিমুখ হয়ে পড়ে। অথচ উন্নত দেশের লাইব্রেরিগুলোতে রয়েছে বই পড়ার জন্য উপযুক্ত ও মনোরম পরিবেশ। সেই সব লাইব্রেরিতে নেই কোনো কোলাহল, হইচই, নেই কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা। লাইব্রেরিয়ানদের মার্জিত ও রুচিশীল আচার-আচরণ পাঠককে সহজেই লাইব্রেরির প্রতি আকৃষ্ট করে।
দেশের উন্নতির জন্য, তরুণদের প্রতিভা বিকশিত করতে সর্বোপরি আলোকিত মানুষ গড়ার জন্য লাইব্রেরির সংখ্যা বাড়াতে হবে। আর যেসব লাইব্রেরি আছে, সেগুলোতে উন্নত দেশের ন্যায় পড়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত চেষ্টায়ও লাইব্রেরি গড়ে তুলতে হবে। পাড়া-মহল্লা, গ্রামে সবার সহযোগিতার মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে এলাকা বা অঞ্চলভিত্তিক লাইব্রেরি। এসব ছোট পরিসরের লাইব্রেরির মাধ্যমে মানুষ বইপ্রেমী হয়ে উঠবে, প্রকৃত পাঠক তৈরি হবে; যারা নিজেদের বিকশিত করার মাধ্যমে গড়ে তুলবে বিভেদহীন মানবিক সমাজ। তাই গড়ে উঠুক লাইব্রেরি, বিকশিত হোক মানুষ্যবোধ, আলোকিত হোক সমাজ।
n লেখক :শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
