কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক আলী আশরাফের অবস্থা উন্নতির দিকে বলার মতো পরিস্থিতি এখনো দেখছেন না তার চিকিত্সকরা। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা আলী আশরাফ বর্তমানে শতভাগ ভেন্টিলেটরনির্ভর। তার রক্তে প্লাটিলেটও কমে যাচ্ছে। এ জন্য রক্ত দিতে হচ্ছে। এছাড়া পিত্তথলিতে ও ফুসফুসে যে সংক্রমণ সেটিরও তেমন উন্নতি নেই। আলী আশরাফের একমাত্র ছেলে ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মুনতাকিম আশরাফ টিটু চিকিত্সকদের উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল সোমবার রাতে ইত্তেফাককে একথা জানান।
অধ্যাপক আলী আশরাফের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে টিটু জানান, তার শরীরের প্যারামিটারগুলোর কোনোটি খারাপ, কোনোটি ভালোর দিকে ওঠানামা করছে। চিকিত্সকরা বলছেন, এভাবে ১০-১৫ দিন ভারসাম্যের মধ্যে রাখা গেলে বিষয়টি হবে আশাব্যঞ্জক। তার শারীরিক যত সমস্যা তাতে এ বয়সে (৭৩) সাধারণত উন্নতির সম্ভাবনা কম থাকে। কিন্তু আশার কথা, তিনি এখনো যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। ফুসফুসের সংক্রমণ যে হারে বাড়ছিল, তাতে অনেকের হূদিপণ্ড ও লিভার অকেজো হয়ে পড়ে। কিন্তু তার ক্ষেত্রে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ এখন পর্যন্ত ভালো সাপোর্ট পাচ্ছে।
আশরাফপুত্র টিটু আরো জানান, স্কয়ার হাসপাতালে আলী আশরাফের চিকিত্সায় দায়িত্বরত চিকিত্সকদের পরামর্শে ভারত থেকে শুক্রবার রাতে যে ২১টি উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন আনা হয়েছে, গতকাল পর্যন্ত ৯টি প্রয়োগ করা হয়েছে। তাতে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। গত কয়েক দিন কিডনির পরিস্থিতি খারাপ ছিল। ফলে ডায়ালাইসিস করতে হয়েছে। তবে গতকাল থেকে ডায়ালাইসিস লাগছে না।
বুধবার ঈদের দিন বিকাল ৩টায় লাইফ সাপোর্টে যাওয়ার পর থেকে আলী আশরাফ এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া দিচ্ছেন না, চোখও খুলছেন না। অবশ্য তার করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে। পিত্তথলিতে জমা পাথর অপসারণের জন্য আলী আশরাফকে গত ১০ জুলাই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়লে কেবিন থেকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সংক্রমণ কমাতে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হলেও উন্নতি হয়নি। সর্বশেষ নিউমোনিয়া ধরা পড়ে, গত বুধবার প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিত্সকরা তাকে লাইফ সাপোর্টে নেন।
সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলী আশরাফ ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন। তিনি এনিয়ে পাঁচ বার কুমিল্লা থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০০ সালে তিনি সংসদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।
