ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পিতা বাদল মিয়ার হাতে খুন হয়েছে ৯ বছরের শিশু সায়মন। রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার সাদাতের আদালতে শিশু সায়মনকে হত্যার কথা স্বীকার করে বাদল মিয়া ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করে। এর আগে বাদল মিয়া সদর মডেল থানার ওসি এমরানুল ইসলামের কাছে শিশুপুত্রকে হত্যার কথা স্বীকার করে ১৫১ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করে।
বাদল মিয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের নদ্দাপাড়ার বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিল। বাদল মিয়ার তিন ছেলের মধ্যে সায়মন বড়। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ছাত্র। আদালতের বরাত দিয়ে ওসি এমরানুল ইসলাম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে বাদল মিয়া জানায়, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থেকে ২০১২ সালে সে দেশে ফিরে এসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার ভাদুঘর গ্রামের দেওয়ান পাড়ায় বিয়ে করেন। বিয়ের পাঁচ মাস পর তিনি পুনরায় সৌদি আরবে চলে যান। সেখানে যাওয়ার দুই মাস পর সায়মনের জন্ম হয়। এতে তার মনে সন্দেহ হয় এই ছেলে তার কি না। এক বছর পর বাদল মিয়া আবারও দেশে ফিরে আসেন। পরে সে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে বিয়ের আগে তার স্ত্রীর সঙ্গে বশির নামে এক ছেলের সম্পর্ক ছিল। বাদল মিয়ার সন্দেহ হয় সায়মন বশীরের সন্তান। সায়মনের পরে আয়মন ও নাঈম নামে তার আরো দুই ছেলের জন্ম হয়। কিন্তু সেই দুই ছেলের সঙ্গে সায়মনের চেহারার মিল না থাকায় বাদল মিয়ার সন্দেহ আরো দৃঢ় হয়। এরপর সে সায়মনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবার ভোর বেলা সে সায়মনকে ঘুম থেকে তুলে তার সঙ্গে ঘাস কাটতে বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে জমিতে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে সায়মনকে গলা কেটে হত্যা করে লাশ ধানি জমিতে ফেলে দেয়। ওসি এমরানুল ইসলাম জানান, জবানবন্দী দেওয়ার পর আদালতের নির্দেশে বাদল মিয়াকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
