দেশে আরো তিনটি নতুন উপজেলার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এই তিন উপজেলা হচ্ছে কক্সবাজার সদরের ঈদগাও, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ডাসার এবং সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানাকে উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। নতুন তিনটিসহ দেশে মোট উপজেলার সংখ্যা দাঁড়াল ৪৯৫টি। গতকাল সোমবার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় নতুন এই তিন উপজেলার অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে এই সভায় সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, নিকারের বৈঠকে তিনটি নতুন উপজেলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলাকে শান্তিগঞ্জ নামকরণ করা হয়েছে। এলাকার লোকজনের অসুবিধা হচ্ছিল মূল উপজেলা থেকে দুর্গম এলাকায় এসব থানা হওয়াতে। এসব থানাকে উপজেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘উপজেলা হতে যে ক্রাইটেরিয়া রয়েছে এগুলো তা পুরোপুরি পূরণ করে না, কিন্তু তিনটিই রিমোট এরিয়া, এজন্য নিকার এগ্রি করেছে। একই সঙ্গে নিকার নির্দেশনা দিয়েছে এরপর থেকে ক্রাইটেরিয়া ফুলফিল না করলে যাতে প্রস্তাব না আনা হয়।’
বারকাউন্সিলে অ্যাডহক কমিটি করা যাবে
বারকাউন্সিলে অ্যাডহক কমিটি করতে একটি অধ্যাদেশ সংশোধনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ৩১ মের মধ্যে বারকাউন্সিলের নির্বাচন করে তিন বছরের জন্য কমিটি নির্বাচন করতে হয়। এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশে নির্বাচনের কোনো বিকল্প রাখা নেই। সেজন্য অধ্যাদেশটি সংশোধন করে এক বছরের জন্য অ্যাডহক কমিটি করার বিধান যুক্তের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৈঠকে ‘বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাক্টিশনার্স অ্যান্ড বারকাউন্সিল (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স, ২০২১ এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন, ২০১৮’ অনুমোদন হয়নি
অবসরে গিয়ে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা বড় কোনো অপরাধ করলে তার পেনশন আটকে দেওয়া হবে এমন বিধান রয়েছে বর্তমান সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ তে। এর সংশোধন চেয়ে নতুন করে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) আইন, ২০১৮’। কিন্তু মন্ত্রিসভা বৈঠকে সেটি অনুমোদন করা হয়নি। এর মধ্য দিয়ে আগের মতোই যে কোনো সরকারি কর্মচারী অবসরে গিয়ে বড় কোনো অপরাধ করলে তার পেনশন আটকে যাবে— এমন বিধানই বহাল থাকল। কাজেই বিদ্যমান সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী অবসরে গিয়ে সরকারি কোনো কর্মচারী গুরুতর অপরাধ করলে সরকার তার অবসর সুবিধা (পেনশন) সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাতিল, স্থগিত বা প্রত্যাহার করতে পারবে।
মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা যোগ দেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর কয়েকটি ধারা সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছিল। আইনের ৫১ (৪) ধারায় বলা হয়েছে- ‘অবসর সুবিধাভোগী কোনো ব্যক্তি গুরুতর অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত বা কোনো গুরুতর অসদাচরণের দোষে দোষী সাব্যস্ত হইলে, কারণ দর্শাইবার যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান করিয়া, সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, তাহার অবসর সুবিধা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাতিল, স্থগিত বা প্রত্যাহার করিতে পারিবে।’ এই ধারাটি বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছিল। ক্যাবিনেট সেটা অনুমোদন করেনি। ক্যাবিনেট আগেরটিই বহাল রেখেছে। তিনি বলেন, ‘প্রস্তাব ছিল যে রিটায়ার করবে তার যাতে পেনশন থেকে কোনো টাকা কাটা না হয়। মন্ত্রিসভা এটা অনুমোদন দেয়নি। আগে যেটা ছিল সেটাই রেখে দিয়েছে। আরেকটি সংশোধন আনা হয়েছিল, আইনে আছে—পিআরএলে যাওয়া ব্যক্তিদের অন্য কোথাও চাকরি করা কিংবা বিদেশে যাওয়ার জন্য সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। প্রস্তাব আনা হয়েছিল এক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন লাগবে। এটাও ক্যাবিনেট অ্যাগ্রি করেনি। আগে যেটা ছিল সেটাই থাকবে বলেন তিনি। তবে আগের আইনে কিছু করণিক ভুল ছিল সংশোধিত আইনে সেগুলো ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।’
