সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা

বিদ্যুেকন্দ্র বন্ধসহ সুন্দরবনের ভেতরে নৌযান চলাচল নিষিদ্ধের দাবি

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২১, ০০:২৬

সুন্দরবন ইস্যুতে সরকার বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দেন-দরবার করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, রামপাল, তালতলি ও কলাপাড়ার সব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র বন্ধ করাসহ সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য বহনকারী নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করতে হবে। গতকাল সোমবার সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আয়োজিত ‘সুন্দরবন বিষয়ে ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সাম্প্রতিক সভার সুপারিশ’বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। 

বাপা ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সভাপতি মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেন, সুন্দরবন নানা কারণে আজ বিপজ্জনক অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। সুন্দরবন ইস্যুতে সরকার বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দেন-দরবার করেছে বলে মনে হয়। যার প্রমাণ গত ৪৪তম সভায় স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। সুন্দরবন ইস্যুকে কেন্দ্র করে নিজ সংগঠন এবং গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে একটি শক্ত মনিটরিং টিম গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি সুন্দরবন রক্ষায় নীতিগত কার্যপরিকল্পনা গ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   

ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ওয়াচের চেয়ারম্যান স্টিফেন ডমপকে বলেন, ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভায় রাজনৈতিক প্রভাব কয়েক বছর যাবত্ দেখা গেলেও এ বছর তা কেবল সুন্দরবন নয়, অন্যান্য ঐতিহ্যের বেলায়ও প্রকটভাবে লক্ষ্য করা গেছে।

জেনেভায় জাতিসংঘে আর্থ জাস্টিসের স্থায়ী প্রতিনিধি ইভস লেডর বলেন, জনগণের মতামত এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার বিরুদ্ধে গিয়ে ইউনেসকোর মতো বৈশ্বিক মঞ্চে সরকারের পরিবেশবিরোধী কৌশল অবলম্বন করার কারণে বাংলাদেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, যে প্রকল্পে নিজের দেশের জনগণের সমর্থন নেই, সেই প্রকল্পের জন্য সরকার বিদেশিদের সঙ্গে দেন-দরবার চালিয়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। আমরা পরিবেশের ক্ষতি না করে নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন করতে চাই।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন—বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক আব্দুল আজিজ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ্ হারুন চৌধুরী, বাপার নির্বাহী সহ-সভাপতি এবং সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব ডা. মো. আব্দুল মতিন, তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত্-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির অন্যতম সংগঠক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রহমান, বেনের সদস্য অধ্যাপক ড. সাজেদ কামাল ও অধ্যাপক ড. খালেকুজ্জামান, আন্তর্জাতিক পরিবেশ কর্মী তন্নী নওশীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম, বাপার কোষাধ্যক্ষ মহিদুল হক খান এবং পশুর রিভার ওয়াটারকিপার নুর আলম শেখ।