বিধিনিষেধের ৪র্থ দিন

ঢাকায় গ্রেফতার ৫৬৬, জরিমানা ১১ লাখ

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২১, ০০:২৮

কঠোরতম বিধিনিষেধের চতুর্থ দিনে গতকাল সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় বেড়েছে রিকশা চলাচল। সেই সঙ্গে বেড়েছে বিভিন্ন ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যাও। নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে সাধারণ মানুষ চলাচলের পরিমাণ আগের তিন দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি। কোথাও কোথাও বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মানুষের জটলা দেখা গেছে। রাস্তায় দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যরা বলছেন, বাইরে বের হওয়া মানুষের অজুহাতের শেষ নেই। নানা ধরনের অসিলা দিয়ে তারা রাস্তায় বের হচ্ছে। গতকাল রাস্তায় পুলিশের তত্পরতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। নগরীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে রয়েছে পুলিশের চেকপোস্ট। এসব চেকপোস্টে বিনা কারণে বের হওয়া ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও যানবাহনকে ধরে জরিমানা করা হচ্ছে।

সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বাইরে বের হয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ৫৬৬ জন। আর ১৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ২০০ টাকা। এছাড়াও ট্রাফিক বিভাগ ৪৪৩টি গাড়ির বিরুদ্ধে করা মামলা থেকে জরিমানা করা হয়েছে ১০ লাখ ২২ হাজার টাকা। এ নিয়ে গত চার দিনে রাজধানীতে মোট গ্রেফতার হয়েছেন ১ হাজার ৯৩৯ জন।

গতকাল রাজধানীর মিরপুর, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, মতিঝিল, দিলকুশা, বায়তুল মোকাররম, আরামবাগ, ফকিরাপুল, রাজারবাগ, দৈনিক বাংলা, পল্টন, কমলাপুর, শান্তিনগর, শাহবাগ, মগবাজার, তেজগাঁও, মালিবাগ, রামপুরা, মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে মানুষের উপস্থিতি।

গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে দেখা গেছে বড় ধরনের যানজট। সেখানে গিয়ে দেখা গেল, রমনা জোনের এডিসি হারুন আর রশীদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল প্রতিটি গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা করছেন। এই কারণে সেখানে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ চেকপোস্টে প্রতিটি ব্যক্তিগত গাড়ি বের করার কারণ জানতে চাওয়া হচ্ছে। এই সময় যারা বাইরে বের হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বলতে পারছেন না কিংবা কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারছেন না তাদের জরিমানা করা হচ্ছে। এই সময় বেশ কয়েক জনকে বিনা কারণে বের হওয়ায় আটক করা হয়েছে। জানতে চাইলে এডিসি হারুন আর রশীদ বলেন, অনেক মানুষ বিনা কারণে বের হচ্ছেন, অনেকে ঘুরতে কিংবা আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে বের হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনের কাগজপত্র তল্লাশি করছি এবং প্রতিটি মানুষের বের হওয়ার কারণ জানতে চাচ্ছি। এর মধ্যে যারা বিনা কারণে বের হচ্ছেন কিংবা গাড়ির কাগজপত্র নেই তাদের চিহ্নিত করে জরিমানা করার পাশাপাশি বেশ কয়েক জনকে আটক করছি। কোনো মানুষ বিনা কারণে বাইরে বের হতে পারবেন না।

এছাড়াও নগরীর প্রতিটি মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে রিকশায়, বাইকে করে অথবা ব্যক্তিগত যানবাহনে কিংবা পায়ে হেঁটে চলাচলকারী লোকজনকে রাস্তার বের হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এদের মধ্যে যেসব লোকজন সুনির্দিষ্ট কারণে কিংবা দরকারে বের হয়েছেন তাদের চলাচলে কোনো বাধা দিচ্ছেন না। অন্যদিকে যারা বিনা কারণে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হচ্ছেন তাদের মামলা দিচ্ছেন, জরিমানা করছেন। কোনো কোনো গাড়িতে রেকার লাগাচ্ছেন। এছাড়াও বিধিনিষেধের মধ্যে অফিস, দোকানপাটসহ বন্ধ থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করতে রয়েছে টহল পুলিশের ব্যবস্থা।

সকাল পৌনে ১০টার দিকে মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ এলাকায় দেখা গেল মুদি, মোবাইল রিচার্জ, লন্ড্রি, ইলেক্ট্রনিক্সসহ বিভিন্ন পণ্যের বেশ কিছু দোকান খোলা। তবে বেশির ভাগ দোকানের শাটার আধাখোলা। হঠাত্ বাইরে একজন চিত্কার করে উঠলেন—আইছে, আইছে। প্রায় একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেল সবগুলো খোলা থাকা দোকানের শাটার। রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফল, সবজি বিক্রি করা ফেরিওয়ালারাও ভ্যান নিয়ে সরে গেলেন গলির ভেতর। এরপরই দেখা গেল মোহাম্মদপুর থানার একটি টহল গাড়ি সেখানে এসেছে।

মিরপুরের রূপনগর এলাকার মহল্লাগুলোতেও মোহাম্মদপুরের মতো প্রায় একই অবস্থা দেখা গেল। মোড়ে আড্ডা দিতে থাকা কম বয়সিদের জটলা থেকে টহল পুলিশ দেখলেই এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে শিস দিয়ে কিংবা ফোনে জানিয়ে দিচ্ছে পুলিশ আসার খবর। এরপর সুবিধামতো জায়গায় সরে যাচ্ছে তরুণ-যুবাদের দল। আবার পুলিশ চলে গেলেই হই-হুল্লোড় করছে। তাদের বেশির ভাগের মুখে মাস্ক নেই। রূপনগর থানার এসআই দেবরাজ চক্রবর্তী বলেন, সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে আমরা বেশি কিছু করতে পারি না।