পুরো নাম মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। অভিনয়ে ইমরান নূর নামে চলাচল তার দীর্ঘদিন। কিন্তু একটি দুর্দান্ত কাজের সাফল্য তার সকল নাম বদলে এখন ‘এস আই মলয়’ হিসেবেই পরিচিতি দিয়েছে। সম্প্রতি আশফাক নিপুন পরিচালিত ‘মহানগর’ নামের ওয়েব সিরিজে তার অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন অনেকেই। নিজেকে একজন মেথড অ্যাক্টর হিসেবেই পরিচয় দিতে ভালোবাসেন। কথা বলেছেন সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
বর্তমান কাজের ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই—
পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তেমন কাজ করছি না। তবে আমার ‘সুগার ফ্রি’ শিরোনামের একটি ওয়েব সিরিজ মুক্তি পাচ্ছে শিগগিরই। আসলে এই করোনাকালীন তো শুধু আমি না, কোনো শিল্পীই কাজ করতে পারছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় আছি।
‘মহানগর’ ওয়েব সিরিজে মোশাররফ করিমের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
উনি অসাধারণ একজন অভিনেতা। তার চরিত্রের সঙ্গে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা আমাকে বরাবরই মুগ্ধ করে। ওনার সঙ্গে কাজ করতে পেরে খুবই আনন্দিত আমি। অনেককিছু শিখতে পেরেছি তার কাছ থেকে।
প্রশংসিত ‘এস আই মলয়’ চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল?
আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে একজন সত্ পুলিশ অফিসারের চরিত্রে কাজ করা সত্যি অনেক কঠিন। তাছাড়া এমন চরিত্রে আগে কাজ করা হয়নি। তবু চেষ্টা করেছি আমার অবজারভেশনগুলো কাজে লাগানোর।
মঞ্চের অবস্থা দিনদিন শোচনীয় হচ্ছে। একজন নিয়মিত মঞ্চকর্মী হিসেবে এ নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?
বাইরের দেশে থিয়েটার থেকে আয় হয়। কিন্তু আমাদের দেশে সেই অবস্থা এখনো তৈরি হয়নি। বলতে পারেন, যতদিন মঞ্চ পেশাদারিত্বের জায়গায় না পৌঁছাবে ততদিন অবস্থার পরিবর্তন হবে না। তাছাড়া শিল্প ও শিল্পীকে বরাবরই আমাদের দেশে অবমূল্যায়ন করা হয়। আগে নিজেদের মূল্যায়ন করা শিখতে হবে।
সম্প্রতি ‘সত্য ঘটনা’ শিরোনামের একটি নাটক নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা চলছে। এ ধরনের কাজের জন্য কাকে দায়ী করবেন?
আসলে এ ধরনের কাজের জন্য তো শুধু নির্মাতাকে দায়ী করা যাবে না। কারণ নির্মাণের আগে গল্প তৈরি হয়। সেটা চ্যানেল কর্তৃপক্ষসহ অনেকেই দেখেন। এটা তো টিম ওয়ার্ক। তাই দায় সবারই থাকে। তবে আমি বলবো, এ ধরনের কুসংস্কারকে প্রাধান্য দিয়ে নির্মাণ না করাই ভালো।
নাটকের তালিকা দীর্ঘ হলেও সেভাবে প্রভাব ফেলতে না পারার কারণ হিসেবে কী বলবেন?
চ্যানেল অনেক বেশি হওয়ায় দর্শকরা একটি নাটক দেখতে দেখতে আবার বিজ্ঞাপনের কারণে অন্য চ্যানেলে চলে যাচ্ছে। শুধু মাঝে বিজ্ঞাপন না, নাটক চলাকালে পুরো স্ক্রিনেই বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন ভাসে। ফলে কোনো নাটকই মনোযোগ দিয়ে দেখতে পারছে না। এছাড়া ভিউ গোনার বিষয়টি তো আছেই!
এই ভিউ বাণিজ্যকে কীভাবে দেখছেন?
এটাকে আমি কোনোভাবেই দেখতে চাই না। ভিউ চর্চা ইন্ডাস্ট্রির জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। অনেক ভালো শিল্পীকেও শুনতে হচ্ছে আপনার ভিউ নেই! এটা এক ধরনের অবমূল্যায়ন। শিল্পীকে ভিউয়ের বেড়াজালে আবদ্ধ রাখা ঠিক না।
ওটিটিকে কতটা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন? এখানে কাজের স্বাধীনতা কতটা থাকবে বলে মনে করেন?
এই মাধ্যমটিকে বরাবরই ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। ওটিটিতে কাজের ভালো সুযোগ আছে। এছাড়া এখন অবধি কাজের স্বাধীনতা এখানে রয়েছে। যারা ভালো শিল্পী ও নির্মাতা তারাই কিন্তু এখনে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। আমার মনে হয়, সততার সঙ্গে এই মাধ্যমটির সঠিক ব্যবহার করতে পারলে বিশ্ববাজারে আমরা অবস্থান তৈরি করতে পারবো।
দেশের চলচ্চিত্রের অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। আদৌ কী চলচ্চিত্র হলে ফিরতে পারবে?
চলচ্চিত্র তো অনেক আগেই হলে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু এফডিসিতে যেতে হলে অনেক পথ পড়ি দিয়ে যেতে হয়। এতে করে তো ভালো চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে না। এছাড়া হল সংকটও বড় একটি সমস্যা। সিনেপ্লেক্স বাড়লে এবং নিজেদের গল্পে ছবি নির্মিত হলে চলচ্চিত্র আবারো শিল্প হয়ে উঠবে।
