আশিকুর রহমান পলাশ, বাসাইল (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
বাসাইলে গত এক সপ্তাহে ঝিনাই নদীর প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১০-১৫টি ভিটাবাড়ি, ফসলি জমিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের কবলে পড়েছে উপজেলার ১৬টি গ্রাম। ভাঙনের আতঙ্কে নদীর পাড়ের অনেকেই বাড়িঘর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। অনেকেই আবার শেষ সম্বল বসতভিটে হারিয়ে হয়েছে আশ্রয়হীন। ভাঙনের শঙ্কায় রয়েছে বিলপাড়ার মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদের বীর নিবাসটিও। ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, এ উপজেলার নদী তীরবর্তী ফুলকি, কাশিল, কাঞ্চনপুর ও হাবলা ইউনিয়নের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকার অন্তত ১৬টি গ্রামে ইতিমধ্যে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনকবলিত গ্রামগুলো হচ্ছে ফুলকি ইউনিয়নের দোহার, হাকিমপুর, জশিহাটি ও একঢালা। কাশিল ইউনিয়নের দাপনাজোর, দেউলী, কামুটিয়া, নথখোলা, কাশিল, থুপিয়া, নাকাছিম ও বিয়ালা। কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কাজিরাপাড়া, বিলপাড়া, মানিকচর ও আদাজান। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে পাকা সড়ক, খেলার মাঠ, হাটবাজার, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা। এখনই ব্যবস্থা না নিলে নদীগর্ভে বিলীন হবে বসতবাড়িসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ছিন্নমূলের তালিকায় যোগ হবে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সারা বছরই ঝিনাই নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ঝিনাই নদীর ভাঙনের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কাঞ্চনপুর কাজিরাপাড়া এলাকার মো. খসরু খান জানান, আমার ভিটাবাড়ি যে টুকু ছিল, সবই নদীতে চলে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে বসবাস করার মতো জায়গাটুকুও নেই। কাশিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মির্জা রাজিক বলেন, ইতিমধ্যেই নদীভাঙন রোধে ইউনিয়নের কামুটিয়া, দাপনাজোর ও কাশিল পশ্চিমপাড়ায় প্রায় ২ কোটি টাকার কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। যেসব এলাকায় এখনো নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে সেসব এলাকার তালিকা করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দেওয়া হয়েছে।
ফুলকি ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ঝিনাই নদীর তীরবর্তী দোহার দক্ষিণপাড়া ও একঢালা গোয়ালপাড়া মসজিদের পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করেছে। ঐ সব এলাকায় নদীভাঙন বন্ধ হলেও নতুন করে দোহার উত্তরপাড়া কবরস্থান ইতিমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। এছাড়া দোহার উত্তরপাড়া মসজিদটি হুমকিতে রয়েছে। হাকিমপুর, জশিহাটি পশ্চিমপাড়া ও একঢালা এলাকার প্রায় ১০টি ভিটাবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক কৃষকের আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঝিনাই নদীর ভাঙন রোধে বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ অব্যাহত আছে। নতুন করে ভাঙনকবলিত পয়েন্টগুলোতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতি বছর অস্থায়ী ভাঙনরোধে শুধু টাকাই অপচয় হচ্ছে। তাই ভাঙনরোধে স্থায়ী পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। অহেতুক টাকা অপচয় ঠেকাতে ও নদী ভাঙনরোধের স্থায়ী প্রকল্প পাঠানো হয়েছে।
