বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬ শতাংশ
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কিছুটা কমিয়ে হালনাগাদ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বিভিন্ন দেশে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়া এবং ভ্যাকসিনে পিছিয়ে থাকায় কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি থেকে পিছিয়ে থাকবে এ দেশগুলো। আইএমএফের হিসাবে এবছর শেষ নাগাদ উদীয়মান দেশগুলো প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। গত এপ্রিলের পূর্বাভাসের চেয়ে এই হার শূন্য দশমকি ৪ শতাংশ কম। গত এপ্রিলে প্রকাশিত বিশ্ব অর্থনীতির পূর্বাভাস প্রতিবেদন জুলাই মাসে হালনাগাদ করে প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশের প্রবৃদ্ধি কমিয়ে পূর্ভাবাস দেওয়া হয়েছে। উন্নত বিশ্বের জন্য কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। তবে সার্বিকভাবে এপ্রিলের তুলনায় এবারের ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে পরিবর্তন আনা হয়নি। উন্নয়নশীল বিশ্বের কিছু দেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রবৃদ্ধির গতিও ধীর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইএমএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে করোনার ভ্যাকসিনের হার বেশি। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে গড়ে ৪০ ভাগ জনগোষ্ঠী ভ্যাকসিনের আওতায় চলে এসেছে। উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে এই হার উন্নত বিশ্বের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। নিম্ন আয়ের দেশে সবচেয়ে কম। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের প্রভাবে মৃত্যুর হার বাড়ছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে উদ্বেগ বাড়ছে। আইএমএফের হিসাবে আগামী বছর অর্থাত্ ২০২২ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী এ বছর শেষ নাগাদ মার্কিন অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ শতাংশ পর্যন্ত যা পরের বছর কমে হতে পারে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। এবছর জাপানের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ২ দশমিক ৮ শতাংশ, চীনের ৮ দশমিক ১ শতাংশ, ভারতের ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। ভারতে গত মার্চের পর থেকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইএমএফ আশঙ্কা করছে, ভ্যাকসিন কার্যক্রম যদি ধীর হয়ে যায় সেক্ষেত্রে অর্থনীতির গতিও কমে যেতে পারে। এবছরের শুরুতে মার্কিন অর্থনীতিতে বাড়তি প্রাণোদনার ঘোষণা এবং স্বাস্থ্য খাতে উন্নতি হওয়ায় প্রত্যাশার চেয়ে বেশি এগুবে বৃহত্ দেশটির অর্থনীতি।
আইএমএফ আশা করছে, ২০২২ সাল নাগাদ সারা বিশ্বে মূল্যস্ফীতির হার করোনা পূর্ববর্তী সময়ের মতো হতে পারে। এরপরেও অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ কিছু উদীয়মান দেশে এখনো খাদ্যের দাম অনেক বেশি।
