অণুরূপকথা : বানরের পনির ভাগ

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২১, ২১:১৯

 

দুই বেড়ালকে নিয়ে কাহিনি। তারা মিলেজুলে এক প্যাকেট পনির চুরি করেছে। পনির তো পাওয়া গেল। এখন ভাগবাটোয়ারা কীভাবে হবে? কে কতখানি নেবে? এই নিয়ে বাধল ঝামেলা। কথা কাটাকাটি। তুমুল ঝগড়া।  কেউ কারো কথা মানতে নারাজ। তারা মুরুব্বি মানল বানরকে। সে যদি পনিরটা সমান ভাগে ভাগ করে দেয়, বেশ হয়। বানরকে অনুরোধ করল দুজনই—ভাই রে, আমাদের এই কাজটা করে দাও না।  তাহলে খুব উপকার হয়। কী, দেবে তো?

বানর এই কাজ পেয়ে মহাখুশি। মিষ্টি হেসে বলে, নিশ্চয়ই। কেন নয়? দাও তো দেখি। তোমাদের পনিরের প্যাকেটটা দাও আমার হাতে।

দেওয়া হলো।

বানর বলে, বাছারা, তোমরা একটা স্কেল খুঁজেপেতে আনো।

এই ফাঁকে সে নিজে কোত্থেকে একটা ছুরি জোগাড় করে নেয়। এখন আসল কাজ। ভাগ করতে হবে। বানর কী করে? পনিরটাকে সমান দুই ভাগে ভাগ করে না। একদিকে বেশি, অন্যদিকে কম করে ভাগ করে। ইচ্ছে করেই এমনটা করে সে। তারপর স্কেল দিয়ে মাপে। উঁহু, হলো না। আফসোস করে বেড়ালদের বলে, উঁহু, ঠিকমতো মাপজোক হলো না। আচ্ছা এখন আমি দেখছি, কেমন করে পনিরটাকে এবার সমান করা যায়। এই তো এখুনি কাজটা হয়ে যাবে। একটু সবুর করো তোমরা, কেমন?

বেড়ালেরা একজন অপরজনের মুখের দিকে তাকায়। বানরের ভাবগতিক তো সুবিধার বলে মনে হচ্ছে না। কী করা যায়?

যেদিকটায় পনিরের পরিমাণ বেশি, বানর এবার সেদিকে খেতে শুরু করে। খেতে খেতে সেই দিক কমে আসে।

বেড়ালেরা এবার পষ্ট বুঝতে পারে যে, বানরের মতলব মোটেও ভালো না। গোটা পনিরই সে নিজের পেটে চালান দেওয়ার ফন্দি এঁটেছে। বড্ডো জ্বালা হলো দেখছি। এখন তাহলে উপায়?

এক বেড়াল তো না পারতে বলেই ফেলে, ঢের হয়েছে। তোমাকে আর ভাগজোক করতে হবে না বাপু। আমরা নিজেরাই ঠিক করে নেব। দাও, পনির ফেরত দিয়ে দাও আমাদের। তুমি তোমার নিজের কাজে যাও দয়া করে।

বানর মজা পেয়ে গেছে। সে মুচকি হেসে বলে, নাহে বাপু। সেটি হচ্ছে না। তোমরা পারবে না। নিজেরা আবার বিচ্ছিরি ঝগড়াফ্যাসাদে জড়িয়ে পড়বে। শেষে বিষয়টা বনের রাজার কানে যাবে। ভীষণ বদনাম হয়ে যাবে আমার।

এ কথা বলে সে বাকি পনিরটুকু সাবাড় করে ফেলে।

দুই বেড়াল এই দৃশ্য হা করে তাকিয়ে দেখে। এছাড়া আর উপায়ই বা কী? নিজেদের দোষে সব হারাতে হলো তাদের।

জায়ারের রূপকথা

হাসান হাফিজ