ফসলি জমি খনন করে মাছ চাষের হিড়িক

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২১, ২১:২৩

কৃষকদের বেশি টাকার লোভ দেখিয়ে খামারের মালিকরা স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় খুব সহজেই কৃষিজমিতে জলাশয় বানিয়ে মাছ চাষ করছেন। অত্যাধুনিক ভেকু দিয়ে জমির মাটি খনন করে তোলা মাটির অর্ধেক বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায় অথবা বসতভিটায়। বাকি মাটি দিয়ে খামারের পাড়ের বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। মাছের খামারের নাম নিয়ে অবাধে জলাশয় অথবা পুকুর বানানোর ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে ফসলের জমি। এমনিতেই ঢাকার চারপাশের জেলাগুলোতে ফসলি জমি নষ্ট করে হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। তারপরও দেখা যাচ্ছে গাজীপুরসহ অন্যান্য নিচু এলাকায় ফসলের জমি নষ্ট করে মাছ চাষের হিড়িক পড়ে গেছে।

এক বিঘা জমিতে ফসল ফলাতে খরচ বাদে কৃষকের যেখানে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা থাকে, সেখানে খামারের মালিকরা বছরে ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার পর্যন্ত টাকা দিচ্ছেন। ১০ থেকে ১৫ বছরের ভাড়া নিয়ে মাছ চাষের নামে গোটা জমি নষ্ট করছেন খামারিরা। খামারের মালিকরা প্রতি খামার থেকে বছরে ১০ লাখ  থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করছেন। খামারের চারপাশে বাঁধ দেওয়ার ফলে বর্ষা মৌসুমে উজানের পানি নামতে পারে না। কোনো কোনো এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। নষ্ট হচ্ছে ফসল। লিজ নিয়ে খামার বানিয়ে কেউ কেউ লাভবান হলেও হারিয়ে যাচ্ছে ভবিষ্যতের কৃষিজমি। পুকুর খননের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। সরেজমিনে সরকার তদন্ত করে নিষেধ করলে পুকুর খনন বন্ধ হবে। না হলে অচিরেই নষ্ট হবে সব ফসলি জমি। প্রকৃতি হারাবে তার নিজস্ব গতি।

জয়নুল আবেদীন স্বপন, শ্রীপুর, গাজীপুর