‘প্রথম অবস্থায় করোনায় মৃত নারীদের লাশ দাফনে কাউকে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি জানতে পেরে আমি করোনায় মৃত নারীদের লাশ দাফনের কাজে নিয়োজিত হই। করোনায় মৃত একেকটা লাশ দাফন মানে একেকটা গল্প, দুর্লভ অভিজ্ঞতা। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে একজন নারীর মরদেহ রাখা হয়েছিল, তাকে শেষবারের মতো দেখারও কেউ ছিল না। তবে ঐ মরদেহের হাতে থাকা একটি স্বর্ণের আঙটি নিতে এসেছিলেন একজন স্বজন। করোনায় আক্রান্ত স্বামীর সেবা করতে গিয়ে মারা গেছেন স্ত্রী, এমন লাশ দাফনের অভিজ্ঞতাও হয়েছে। দুই ধরনের চিত্রই আমরা দেখেছি।’
গতকাল মঙ্গলবার দুুপুরে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নগরভবনে এক অনুষ্ঠানে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবী ও গৃহিণী মোনালিসা জলি নিজের অভিজ্ঞতা ও অনুভূক্তি ব্যক্ত করতে গিয়ে এসব কথা বলেন। করোনায় মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন/সত্কারে নিয়োজিত জেলার কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ৭৬ স্বেচ্ছাসেবীর প্রত্যেককে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রণোদনা উপহার প্রদান করা হয় এ অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে রাজশাহী সিটি করপোরেশন।
অনুষ্ঠানে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের আরেক স্বেচ্ছাসেবী রাজশাহী ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আহিদ উল হক বলেন, ‘আমি প্রায় ৯৫টি লাশ দাফনে অংশ নিয়েছি। আমার পরিবারের উত্সাহ ও অনুপ্রেরণায় কাজটি করা সম্ভব হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বেচ্ছাসেবীদের প্রত্যেকের হাতে ১০ হাজার করে টাকা প্রদান করেন রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি বলেন, ‘করোনায় মৃত ব্যক্তিদের লাশ দাফন/সত্কারে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তা আমাদের সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মৃত্যু ভয়কে জয় করে মানবিক ও মহত্ কাজটি করে যাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। আমি বিশ্বাস করি এই কাজের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে তারা পুরস্কৃত হবেন।’
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা বারিন্দ মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. মঞ্জুরুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. শহিদুল আলম, রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এ বি এম শরীফ উদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
