দেশের খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার এবং একজন অভিভাবকের যে ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ফাঁস হয়েছে, তাতে অধ্যক্ষের ব্যবহূত ভাষা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।
চার মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের অডিওতে অভিভাবক ফোরামের নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর সঙ্গে কথোপকথনে অধ্যক্ষ কামরুন নাহার যেসব ভাষা ব্যবহার করেছেন সে সম্পর্কে ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী গতকাল মঙ্গলবার ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত। শিক্ষকতা একটি ভিন্ন পেশা—এটা মেনেই শিক্ষকতায় আসবেন। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একজন শিক্ষক সৌহার্দপূর্ণ ও দৃষ্টান্তমূলক আচরণ করবেন, এটাই প্রত্যাশিত। তবে সমাজ থেকে পারস্পরিক সৌহার্দ হারিয়ে যাচ্ছে। শ্রদ্ধাবোধ তো নেই বললেই চলে। সমাজে যে ব্যাধি, এই শিক্ষকের ব্যবহার সেটিরই একটা দৃষ্টান্ত।’
বিশিষ্ট এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘খুব দুঃখ লাগে কোনো কোনো শিক্ষকও আজ পেশাদারিত্ব ভুলে যাচ্ছেন। ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের যে মনোবৃত্তি প্রকাশ পেয়েছে, এই ধরনের মানুষের অন্তত শিক্ষকতা পেশায় আসা উচিত নয়। যারা তাদের নিয়োগ দেন, তাদেরও বিষয়টা নতুন করে ভাবতে হবে। এই ধরনের মনোবৃত্তি নিয়ে এই পদে থাকা উচিত নয়। তবে তার এই ব্যবহারকে আমি সমাজের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখছি না। গোটা সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সম্মান যেন হারিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যেকটা মানুষই কমবেশি ক্ষমতা দেখাতে চান। যার যতটুকু ক্ষমতা তিনি সেটা দেখাতে চান। এই শিক্ষকের ব্যবহারেও সেই ক্ষমতারই দাপট প্রকাশ পেয়েছে।’
অধ্যক্ষ ও অভিভাবক ফোরাম নেতার ঐ কথোপকথন নিয়ে বিব্রত ভিকারুননিসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এর মাধ্যমে ভিকারুননিসার দীর্ঘদিনের সুনাম ও ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ফেসবুকে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। কথোপকথনে অধ্যক্ষ কামরুন নাহার কী কী আপত্তিকর শব্দ বা উক্তি কতবার ব্যবহার করেছেন সেটির হিসাবও ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে।
কামরুন নাহারের কথোপকথন সম্পর্কে বলতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক ইত্তেফাককে বলেন, ‘দেশে আইনের শাসন খুব দুর্বল। যাদের টাকা-পয়সা বা অন্য কোনো ক্ষমতার যোগসূত্র রয়েছে তারাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্থানে নিয়োগ পাচ্ছেন। সমাজের সর্বত্র ক্ষমতা-সংশ্লিষ্টদের যে আচরণ, ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের এই ব্যবহারও সমাজের চলমান বাস্তবতারই আরেকটা নজির। সমাজে রাজনীতি যদি সুস্থ না হয়, শিক্ষাব্যবস্থা যদি মানসম্মত না হয়, তাহলে এরকম দৃষ্টান্ত কিছুদিন পরপরই ঘটতে পারে।’
