রয়টার্স ও বিবিসি
শনাক্ত কোভিড রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় শহর সিডনির কর্তৃপক্ষ লকডাউনের মেয়াদ আরো চার সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তুলনামূলক বেশি সংক্রামক ডেলটা ধরনের বিস্তার রোধে জুনের শেষ দিক থেকে শহরটির বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না আসার বিধিনিষেধ জারি হয়েছিল। চলতি মাসের মাঝামাঝি ঐ বিধিনিষেধের মেয়াদ ৩০ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এর পরও সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকায় কর্তৃপক্ষ লকডাউন আরো চার সপ্তাহ বাড়িয়ে ২৮ অগাস্ট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
সিডনিতে চলতি বছরের প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) গতকাল বুধবার ১৭৭ জন নতুন রোগী শনাক্তের খবর দিয়েছে। গত বছরের মার্চের পর রাজ্যটিতে এক দিনে আর এত কোভিড রোগী মেলেনি। সিডনি নিউ সাউথ ওয়েলসের রাজধানী। এনএসডব্লিউর প্রিমিয়ার গ্লেডিস বেরিজিক্লিয়ান বলেছেন, শুক্রবার সিডনির লকডাউন তুলে নেওয়ার কথা থাকলেও এখনকার পরিস্থিতিতে তা করা যাচ্ছে না। তিনি জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া শহরটির বাসিন্দাদের যাতায়াতে নতুন বিধিনিষেধ দিয়েছেন। এই বিধিনিষেধের ফলে বাসিন্দারা এখন জরুরি কেনাকাটার ক্ষেত্রেও ১০ কিলোমিটারের বেশি দূরে যেতে পারবেন না।
নিউ সাউথ ওয়েলসের অবস্থা উদ্বেগজনক হলেও শনাক্ত রোগী কমে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া ও সাউথ অস্ট্রেলিয়া রাজ্য বুধবার লকডাউন থেকে বেরিয়ে এসেছে। বিশ্ব জুড়ে গত দেড় বছর ধরে চলা মহামারির বেশির ভাগ সময়েই অস্ট্রেলিয়া সীমান্ত বন্ধ করে দিয়ে এবং দেশে আসা ব্যক্তিদের হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়ে সংক্রমণ অনেকখানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমর্থ হয়েছিল। বিভিন্ন রাজ্যের সরকার দ্রুত লকডাউন ও আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার মাধ্যমে সংক্রমণের বিস্তার রোধে সক্ষম হয়েছিল।
