ওষুধ ক্রয়ে সচেতনতা কাম্য

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২১, ২০:৫৫

অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক চাহিদা পূরণে আমরা যেমন খাবার গ্রহণ করি, ঠিক তেমনি একজন অসুস্থ মানুষ বা রোগীর কাছে ওষুধ হচ্ছে তার মৌলিক পাথেয়। এই পাথেয় তথা ওষুধের গুরুত্ব কার কাছে কতটুকু? একজন ‘ওষুধ বিক্রেতার’ কাছে ওষুধের যতটা না ব্যাবহারিক গুরুত্ব রয়েছে, তার বিপরীত দিকে একজন রোগীর কাছে ওষুধের ঠিক ততটাই গুরুত্ব রয়েছে। কারণ এই ওষুধ তাকে বিকল্প উপায়ে স্বাভাবিক জীবনদানে সাহায্য করে। আমরা মানু্ষ, সৃষ্টির সেরা জীব ঠিকই, তবে কিছু কিছু মানু্ষ বিবেকবোধ ভুলে গিয়ে পশুর হিংস্রতাকেও হার মানাচ্ছে তাদের ভয়ংকর অর্থলিপ্সুতা পুঁজি করে। আর তাদের এমন মানসিকতার কাছেই হার মানতে হয় সাধারণ মানুষকে।

মানুষ তার প্রয়োজনে, অর্থাত্ অসুস্থতা থেকে মুক্তি পেতেই ওষুধের ব্যবহার করে থাকে। নানা রোগের পাথেয় এই ওষুধ, যা কারো কারো কাছে অত্যাবশ্যকীয় সঙ্গী। সেই ওষুধ নিয়ে একশ্রেণির মানুষ আজ ব্যবসায় মেতেছে। কখনো মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছে নকল ওষুধ। কখনো তুলে দিচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, যা একধরনের বিষ। এই নকল ওষুধের ফলে শরীরে ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে নানা জটিলতা, যা শরীরের কোনো কোনো অর্গানকে অচল করে দিতে পারে। এর থেকে সৃষ্টি হতে পারে জানা বা অজানা নানা রোগ।

মানুষ আজ কীসে নিরাপদ? বিভিন্ন রকম খাদ্যে ভেজাল, খাদ্যে বিষক্রিয়া আমাদের জীবনকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে। যেই পরম পাথেয় আমাদের জীবনকে রক্ষা করতে সাহায্য করে, সেই দিকেও আজ অমানবিকতার ছায়া পড়েছে। মানহীন ওষুধ বিক্রি, অনুমতিপত্র ছাড়াই ওষুধ বিক্রি যেন মাছের বাজারের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। যেভাবেই হোক, থলেতে একবার তুলে দিলেই হলো, বাকিটা ক্রয়কারী ভোগ করবে! কিন্তু এমন ক্রিয়াকলাপে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, বিশেষ করে অনুমতিপত্র ছাড়া ওষুধ সেবনে, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে শারীরিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

এভাবে আর কত নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রম চলবে? যার দ্বারা জাতির জন্য তৈরি হতে পারে ভয়াবহ এক অধ্যায়। এখনই সময় নকল, ভেজাল বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের ওপর নজরদারি বাড়ানো। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে হবে এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে তাদের গর্হিত অপরাধের সাজা দিতে হবে। অপেশাদার ব্যক্তিদের ওষুধের দোকানে রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে। কতটুকু মানসম্পন্ন ওষুধ সাধারণ মানু্ষ হাতে পাচ্ছে, এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি রাখতে হবে। পাশাপাশি আমাদেরও ডাক্তারের পরামর্শপত্রের একটি কপি দোকানির কাছে জমা দিয়ে ওষুধ সংগ্রহ করতে হবে এবং দোকানিকে একটি বিল তৈরি করে দিতে হবে, যেন কী কী ওষুধ বিক্রি করছে তার একটি প্রমাণপত্র থাকে। ওষুধ নিয়ে সব রকম অনিয়ম, দুর্নীতি রুখে দিতে হবে। আর এজন্য একে অপরকে সাহায্য করতে হবে। ওষুধ ক্রয়ের সময় মেয়াদ আছে কি না, প্রত্যেককেই তা বুঝে নিতে হবে। অসংগতি দেখলে আইনের আশ্রয় নিতে হবে। সবাই মিলে সচেতন হলেই আমরা অপশক্তি তথা শত্রুদের রুখে দিতে সক্ষম হব।

n লেখক :শিক্ষার্থী, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ