আজ ২৯ জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এম এ কাদেরীর ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। অধ্যাপক এম এ কাদেরীর পুরো নাম অধ্যাপক ডা. মাজহার আলী কাদেরী, কিন্তু তিনি অধ্যাপক এম এ কাদেরী নামেই সর্বজন পরিচিত। তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। তত্কালীন আইপিজিএমআরে মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সালে আইপিজিএমআরকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হলে তিনি প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
অধ্যাপক ডা. এম এ কাদেরীর গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার হাটহাজারী পৌরসভার ফটিকা গ্রামে। ১৯৪১ সালের ১ অক্টোবর চট্টগ্রাম মহানগরীর নবাব সিরাজউদদৌলা রোডের পৈতৃক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। চট্টগ্রাম শহরেই তার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়। ১৯৫৭ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কৃতিত্বের সঙ্গে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯৫৯ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে আইএসসি পাশ করার পর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএসে ভর্তি হন।
১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষায় সারা দেশের মধ্যে স্বর্ণপদকসহ প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। তা সত্ত্বেও সরকারবিরোধী ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে আইয়ুব-মোনায়েম সরকার তাকে স্কলারশিপ থেকে বঞ্চিত করে এবং চার বছরের জন্য উচ্চশিক্ষায় বিদেশে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। ১৯৬৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯৬৮ সালের ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হাউজ সার্জন, সিনিয়র হাউজ সার্জন ও ইমারজেন্সি মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৮ সালে চিকিত্সাবিজ্ঞানের উচ্চতর শিক্ষার জন্য ডা. এম এ কাদেরী বিলেতে যান এবং MRCP ডিগ্রি অর্জন করেন।
অধ্যাপক এম এ কাদেরী ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় পাবনা-৫-এর (সদর উপজেলা) সাংসদ রফিকুল ইসলাম বকুল মৃত্যুবরণ করেন। পরে উক্ত শূন্য আসনের উপনির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
আমি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে, উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এম এ কাদেরীর সময় ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) (ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। তার মতো একজন ব্যক্তির সান্নিধ্যে কাজ করে আমি কর্মজীবনে অনেক কিছু শিখেছি। আজ আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। তাই আমি এই দিনে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি অধ্যাপক ডা. এম এ কাদেরী স্যারকে এবং তার বিদেহি আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
তিনি ছিলেন অত্যন্ত গুণী শিক্ষক, চিকিত্সক, রোগীর প্রতি অত্যন্ত দরদি মনের অধিকারী এবং দক্ষ প্রশাসক। শিক্ষক হিসেবে তিনি তার ছাত্রছাত্রীদের অন্তর দিয়ে ভালোবাসতেন, স্নেহ করতেন, কিন্তু শিক্ষার মান ও নীতি-আদর্শের কাছে কোনো দিন আপস করেননি। তিনি রোগীদের প্রতি অত্যন্ত দরদি ও যত্নবান ছিলেন। রাতেও তিনি হাসপাতালে নিয়মিত রাউন্ড দিতেন।
একজন ভালো শিক্ষকের যত গুণ থাকা প্রয়োজন, অধ্যাপক ডা. এম এ কাদেরীর মধ্যে সবগুলো ছিল, যার শিক্ষাদানের পদ্ধতি ছিল অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে বাস্তবে রূপ দিতে অধ্যাপক ডা. এম এ কাদেরীর অবদান অসামান্য। মানবিক গুণাবলিতেও তিনি ছিলেন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি শুধু কথায় নয়, বাস্তবেই তার গুণগুলো ধারণ করতেন।
বহুগুণের অধিকারী অধ্যাপক এম এ কাদেরীর জীবনাদর্শ আগামী দিনের পথ চলতে সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রেসিডেন্সি কোর্স চালু করেন, এমডি ও ডিএমডি কোর্স চালুর প্রচেষ্টা করেন এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিতসহ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব যাত্রায় অধ্যাপক ডা. এম এ কাদেরীর অবদান অপরিসীম। তিনি দিন-রাত পরিশ্রম করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে গেছেন। তার নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করে আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাব, আজকের দিনে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
n লেখক :উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়
