বোরহানউদ্দিনে ভরা মৌসুমেও মিলছে না ইলিশ

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২১, ২১:০৫

দুশ্চিন্তায় জেলেরা

মনিরুজ্জামান, বোরহানউদ্দিন (ভোলা) সংবাদদাতা

চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম। অথচ ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে পাওয়া যাচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। মেঘনা-তেঁতুলিয়া পাড়ের ইলিশের আড়তগুলো অলস পড়ে আছে। দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে জেলেদের। জেলেরা জানান, আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাস ভরা মৌসুম। প্রতি বছর এ সময়ে ইলিশ বেচাকেনায় দৌড়ঝাঁপ থাকত। অথচ এ বছর সব ঘাটগুলোতে তার বিপরীত চিত্র।

দুই মাস জাটকা সংরক্ষণ, ২২ দিন মা-ইলিশ রক্ষা অভিযান, সাগরে টানা ৬৫ দিনের অভিযান শেষে ইলিশ শিকারের আশায় জেলেরা প্রতিদিন দল বেঁধে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জাল ফেললেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত রুপালি ইলিশ। মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ের কয়েকটি বড় মাছঘাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদীর পাড়ে জাল, নৌকা পড়ে আছে। কেউ দাঁড়িয়ে আবার কেউবা চায়ের দোকানে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন।

মেঘনার পাড়ের আলিমুদ্দিন বাংলাবাজার ঘাটের জেলে রহিজল, মিজান, মির্জাকালু মাছঘাটের জেলে হাসান, আরিফ, তেঁতুলিয়া নদীর কালাম বর্দারের ঘাটের জেলে জুলহাস, রহমান, আকিব, নুর ইসলাম বলেন, ‘নদীতে অহন মাছ পড়ে না। গাংগে (নদীতে) গেলে লোকসান। তেল খরচ, জাল খরচ লাগে।’ একই এলাকার জেলে খোকন বলেন, নদীতে অহন মাছ কম পড়ছে। তিনি বলেন, আমি গত দুই দিন নদীতে গিয়েও তেমন মাছ পাইনি। মঙ্গলবার নদীতে গিয়ে মাত্র ৯০০ টাকার ছোট ছোট কয়েকটি ইলিশ মাছ পেয়েছি। এ দিয়ে ট্রলারের তেল খরচ পোষায় না।

জেলে সিদ্দিক বলেন, ডাঙায় চলছে লকডাউন। আর নদীতেও চলছে লকডাউন। তিনি বলেন, গত সোমবার নদীতে মাছ শিকারে গিয়ে মাত্র ৩০০ টাকার ছোট ইলিশ মাছ পেয়েছি। নদীতে অহন মাছ নেই। আমরা খুবই কষ্টে আছি। মেঘনার বড় মাছ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মাঝি, তেঁতুলিয়ার কালাম বর্দার, মোশারফ হোসেন বলেন, লাখ লাখ টাকা দাদন দিয়ে আমরা এখন অসহায়। নদীতে মাছ নেই। আমাদের ব্যবসাও নেই।

উপজেলা ক্ষুদ্র মত্স্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি আবু সাইদ মাঝি ও জাতীয় মত্স্যজীবী সমিতির সভাপতি শাহে আলম বলেন, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। তাই সে অনুযায়ী নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ মাছ পড়ার কথা। নদীতে চর জাগা, উজানের প্রবাহ কম থাকা এবং বৃষ্টি কম হওয়ায় ভোলায় নদীতে এখনো কাঙ্ক্ষিত রুপালি ইলিশ ধরা পড়ছে না। বোরহানউদ্দিন উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আলী আহম্মেদ আকন্দ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে এ সমস্যা হতে পারে। নদীতে এখন ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা না পড়লেও জেলেদের জালে কিছু ইলিশ ধরা পড়ছে। আশা করছি চলতি মাসের শেষ দিকে অথবা আগামী মাসের প্রথম দিকে বৃষ্টি বেশি হলে জেলেদের জালে কাঙ্ক্ষিত রুপালি ইলিশ ধরা পড়বে। বরিশাল বিভাগীয় মত্স্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ এফ এম নাজমুস সালেহীন জানান, জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত বিশ্বব্যাপী উষ্ণায়নের প্রভাব, তেঁতুলিয়া নদীর নাব্য সংকটে নদীর গতিপথ পরিবর্তন, বৃষ্টি কম হওয়ায় সমুদ্র থেকে নদীর অভিমুখে সাধু পানির চাপ কম হওয়ায় ইলিশের সমস্যা হতে পারে। সামনের অমাবশ্যার জোয়ারের পর থেকে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলতে পারে।