সড়কে মানুষের চলাচল বেড়েছে

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২১, ২১:০৭

ইত্তেফাক ডেস্ক

কঠোর লকডাউনের ৬ষ্ঠ দিন বুধবার ঢিলেঢালা লকডাউন চলেছে। দিন যতই যাচ্ছে ‘লকডাউন’ না মানার প্রবণতা ততই বাড়ছে। বাইরে মানুষের ভিড় ও যান চলাচল বেড়েছে। বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তত্পর ছিলেন। বিধিনিষেধ না মানায় জরিমানাও করা হয়েছে। খবর ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের :

চাঁদপুর :জেলায় দিন দিন করোনা সংক্রমণ বেড়ে গেছে। শহরের লোকজন কিছুটা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেও গ্রামগঞ্জের বেশির ভাগ মানুষ মানছেন না। করোনার টিকা নেওয়ার জন্য শত শত নারী পুরুষকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াত উল্লাহ এই অবস্থা সামাল দেওয়ার জন্য গতকাল বুধবার থেকে নারীদের জন্য স্থানীয় লেডি প্রতিমা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পৃথক টিকাদান কেন্দ্র চালু করেছেন। জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ ও পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ প্রায় প্রতিদিন চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন সড়ক, জনবহুল এলাকায়  প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলছেন।

মাগুরা :বুধবার শহরের সব মার্কেট, শপিংমল, দোকানপাট বন্ধ ছিল। বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। শহরের প্রবেশপথে এবং বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। এরপরও শহরে কিছু ইজিবাইক, রিকশা, মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা যায়।

চাটমোহর (পাবনা) :বুধবার চাটমোহরে যানবাহন ও মানুষের চলাচল আরো বেড়েছে। ভোরে নতুন বাজার রসুন হাটে অসংখ্য মানুষের সমাগম হয়। সকাল থেকেই সড়কে অসংখ্য মোটরসাইকেল, অটোভ্যান, ইজিবাইক, সিএনজিচালিত থ্রি হুইলার চলাচল করেছে। বিধিনিষেধ কার্যকরে পুলিশের অস্থায়ী চেকপোস্ট থাকলেও, তাতে তেমন প্রভাব পড়েনি। কিছু যানবাহন ও মানুষ পুলিশি জেরার মুখে পড়েছে। মালবাহী যানবাহনেও যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। বুধবার এমন চিত্র দেখা গেল উপজেলার হান্ডিয়াল বাজারে।

হোমনা (কুমিল্লা) :হোমনায় চলছে দোকানি-পুলিশ লুকোচুরি খেলা। পুলিশ দেখলেই হুড়োহুড়ি করে দোকান বন্ধ করেন ব্যবসায়ীরা। আর পুলিশ চলে গেলে সঙ্গে সঙ্গেই দোকান খোলেন। অনেক ব্যবসায়ী পুলিশ যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো শাটার খুলে ব্যবসা শুরু করেন। কেউ কেউ দুই শাটারের মধ্যে একটি খোলেন, অনেকে আবার দুই শাটারের মধ্যে একটির অর্ধেক খুলে ব্যবসা চালাচ্ছেন। বুধবার হোমনা বাজারে সরেজমিনে ঘুরে এমন দৃশ্যই চোখে পড়েছে। হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমন দে বলেন, সরকারি বিধিনিষেধ কার্যকর করতে প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোবাইলকোর্ট পরিচালিত হচ্ছে। এ সময় দেখা যাচ্ছে মানুষের অজুহাতের শেষ নেই। তারপরও যারা আইন অমান্য করছে তাদেরকে সাজা দেওয়া হচ্ছে।

রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম) :রাজিবপুর উপজেলায় চলেছে একেবারে ঢিলেঢালা লকডাউন। লোকজন মানছেন না বিধিনিষেধ। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি কম। নানা অজুহাতে মানুষ বিধিনিষেধ ভেঙে বাড়ি থেকে বাইরে বের হচ্ছেন। ফলে রাস্তাঘাটসহ বাজারে যানবাহন ও মানুষের চলাচল বেড়েছে। রাজিবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভির আহম্মেদ বলেন, লকডাউনের বিষয়টা আমরা দেখছি। রাজিবপুরে আরো জোরদার হবে।

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) :হোসেনপুরে লোকজনকে বিধিনিষেধ অমান্য করে বাইরে বের হতে দেখা গেছে। চলাচল করেছে যানবাহন। বিভিন্ন স্থানে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় পুলিশ সদস্যরা স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।