বিশ্বে ৩০ সেকেন্ডে এক জন হেপাটাইটিসে মারা যান

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২১, ২১:৩৯

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুয়ায়ী, প্রতি ৩০ সেকেন্ডে এক জন হেপাটাইটিসে মারা যান। দীর্ঘসময় হেপাটাইটিসে আক্রান্তের কারণে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। আর বাংলাদেশে ক্যানসারে মৃত্যুর তৃতীয় ধাপে রয়েছে লিভার ক্যানসার। এই রোগের চিকিত্সাও ব্যয়বহুল। ফলে জোরালোভাবে সচেতনতা প্রয়োজন। প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনেই জানেন না যে তার শরীরে এই ভাইরাস আছে কি না। তবে আশার কথা এই যে, সচেতনতায় ৯৮ শতাংশ হেপাটাইটিস প্রতিরোধ করা যায় বলে জানান বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা।

গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর পান্থপথে বিআরবি হাসপাতালের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস’ উপলক্ষ্যে ‘সচেতনতামূলক আলোচনা ও অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। বিআরবি হাসপাতাল লিমিটেড এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ‘কোয়ালিশন ফর গ্লোবাল হেপাটাইটিস ইলিমিনেশন’ কর্তৃক ‘হেপাটাইটিস এলিমিনেশন চ্যাম্পিয়ন-২০২১’ পুরস্কারে ভূষিত হন বাংলাদেশের হেপাটোবিলিয়ারি পেনক্রিয়াটিক সার্জারির পথিকৃত অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী। তিনি বাংলাদেশের প্রথম সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন ও ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বিআরবি হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান। বিআরবি হাসপাতালের পক্ষ হতে অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৬ শতাংশ হেপাটাইটিসে আক্রান্ত। প্রতি বছর দেশে ২০ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে এই রোগে। আমরা জাকাত ফান্ডের মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়ার রোগী ও দরিদ্রদের চিকিত্সা চালিয়ে নিচ্ছি। হেপাটাইটিসের ওষুধ ও টিকা সহজলভ্য করার সুপারিশ জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক রোগী চিকিত্সার মাঝ পথে হারিয়ে যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায় এর প্রধান কারণ ব্যয়বহুল চিকিত্সা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে হেপাটাইটিসের টেষ্ট বাড়াতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই রোগ নিমূর্লের জন্য জনগণের মধ্যে ভতুর্কিতে সরকারের হেপাটাইটিসের ওষুধ ও টিকা স্বল্পমূল্যে সহজলভ্য করতে হবে। নইলে এই রোগের চিকিত্সা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, হেপাটোবিলিয়ারি পেনক্রিয়াটিক সার্জন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী, বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালক এম ডি মফিজুর রহমান, ডিএমএস ও সিইও ডা. মো. মনসুর আলী, অধ্যাপক এম এ বাসার, অধ্যাপক ডা. আকরাম হোসেন, ডা. হাসিম রাব্বি, ডা. এইচ এ নাজমুল হাকিম শাহীন, ডা. মিজানুর রহমান প্রমুখ।