অবশেষে সুদিনের দেখা পেয়েছেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ধুলাতইর গ্রামের বাসিন্দা লাজিনা। আর্থিক সংকটের কারণে একসময় বিধবা ভাতার কার্ড নিতে হয়েছিল তাকে। ছেলে সরকারি স্কুলের শিক্ষক হওয়ায় এখন তার সংসারে ফিরেছে সচ্ছলতা। এখন ঐ কার্ডের আর প্রয়োজন নেই। বিধবা ভাতার কার্ড ফিরিয়ে দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
লাজিনা বলেন, ‘একসময় আর্থিক সংকটের কারণে বিধবা ভাতার কার্ড নিয়েছিলাম। ঐ কার্ড আমার আর প্রয়োজন নেই। তাই ছেলেকে বলেছি, বাবা, কার্ড সমাজসেবা অফিসে ফিরিয়ে দাও। আরেক জন বিধবা আমার এই কার্ড পেয়ে উপকৃত হবে।’ গত ৭ জুন উপজেলা সমাজসেবা অফিসে গিয়ে বিধবা ভাতার কার্ড ফেরত দিয়েছেন ছেলে মামুনুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘আমার মা আমাদের সকলের জন্য গর্ব। তিনি আমাদের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তার কোনো তুলনা হয় না। তার অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে শিক্ষিত হয়ে আজ শিক্ষকতা পেশায় জায়গা পেয়েছি।’
১৯৯৮ সালে তার নামে উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে চালু হয় বিধবা ভাতা। তখন প্রতি মাসে একটি কার্ডের বিপরীতে দেওয়া হতো মাত্র ১০০ টাকা। মায়ের অদম্য সাহস আর সহযোগিতায় জয়পুরহাটের আক্কেলপুর সরকারি মজিবুর রহমান ডিগ্রি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন মামুনুর রশিদ। বর্তমানে ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের সরকারি চকসোনার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি করছেন মামুন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শরিফ উদ্দীন বলেন, বিধবা ভাতার কার্ড ফেরত দিয়ে লাজিনা বিবি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার এই কাজ অনেকের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
